বিশ্বকাপে মেসিদের খেলা দেখতে সাইকেলে ১৭ হাজার কিমি পাড়ি দিচ্ছেন তিন বন্ধু
ফুটবলের প্রতি আপনার আবেগ কতখানি? প্রশ্নটি তাত্ত্বিক মনে হতে পারে। কিন্তু তিন আর্জেন্টাইন বন্ধুর কাছে এর উত্তর বেশ পরিষ্কার ও সুনির্দিষ্ট—সাইকেলে চড়ে ১৭ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে পৌঁছানো!
এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁদের কোনো ক্লান্তি নেই। আগামী ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিতে তিন বন্ধু এখন দারুণ রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।
ভিসেন্তে কনকুলিনি তাঁর দুই বন্ধু মিগুয়েল সিলিও এবং ইয়ামান্দু মার্তিনেজের সঙ্গে এই দীর্ঘ ভ্রমণে বেরিয়েছেন। যাত্রার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কনকুলিনি বলেন, ‘এ সফরের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য অবশ্যই জাতীয় দলকে সমর্থন করা, তবে সেটা মূল উদ্দেশ্য নয়। আমাদের কাছে মূল বিষয় হলো দীর্ঘ পথচলা বা যাত্রাটি। আমরা এরই মধ্যে মেক্সিকোসহ ১৬টি দেশ ঘুরে ফেলেছি; এখন শুধু শেষ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র বাকি, যেখানে কানসাস সিটিতে আর্জেন্টিনা খেলবে।’
ভিসেন্তে, সিলিও এবং মার্তিনেজ তিনজনই আর্জেন্টিনার গুয়ালেগুয়াইচু শহরের বাসিন্দা, যা বুয়েনস এইরেস থেকে ২৪৮ কিলোমিটার উত্তরে উরুগুয়ে সীমান্তের কাছে অবস্থিত। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট তাঁরা যাত্রা শুরু করেন এবং বর্তমানে মেক্সিকোতে অবস্থান করছেন। ১০ মাসের মধ্যে এই যাত্রা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। ইতিমধ্যে তাঁরা গুয়াতেমালা, হুন্ডুরাস, কোস্টারিকা, পানামা, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিলসহ বেশ কিছু দেশ পাড়ি দিয়েছেন।
কনকুলিনির ভাষায়, এই সফরের সবচেয়ে আনন্দদায়ক অংশ হলো রোমাঞ্চকর যাত্রা। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দেওয়ার সময় তাঁরা স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জেনেছেন, বিকল্প সব রাস্তার খোঁজ পেয়েছেন এবং দীর্ঘক্ষণ সাইকেল চালিয়ে নিজেদের পায়ের পেশিগুলোকেও বেশ ঝালিয়ে নিয়েছেন।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ফুটবল ভক্ত তাঁদের পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ জানিয়ে বলেন, ‘পুরো উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকাকে যুক্ত করা প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে ধরে আমরা একটি সাধারণ রুট ম্যাপ তৈরি করেছিলাম। তবে সেই পরিকল্পনাটি ছিল কেবল একটি প্রাথমিক ধারণা। পথে কোনো সুন্দর শহর দেখার সুযোগ, কম উচ্চতার রাস্তা কিংবা স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্য সাইক্লিস্টদের পরামর্শসহ অনেক কারণেই আমাদের মূল পথ বারবার পরিবর্তন করতে হয়েছে।’
এই তিন বন্ধু তাঁদের দীর্ঘ ভ্রমণের রোমাঞ্চ এবং নানা আবিষ্কারের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভ্রমণ ডায়েরির মতো করে শেয়ার করছেন। যাঁরা এই রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে কৌতূহলী, তাঁদের জন্য তাঁরা একটি ইনস্টাগ্রাম পেজও খুলেছেন। সেখানে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪ হাজার অনুসারী তাঁদের এই যাত্রার সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়েছেন।
ভ্রমণের নানা মুহূর্ত দিয়ে তৈরি করা একটি ভিডিওতে এই অভিযাত্রীরা বলেন, ‘লিও (মেসি), আমরা এখন নিকারাগুয়ায় আছি। তোমাকে জানিয়ে রাখছি, জুনে তোমার খেলা দেখতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকব। আমরা সাইকেলে চড়ে আসছি শুধু তোমার সঙ্গে এক কাপ “মেট” (আর্জেন্টাইন পানীয়) খাওয়ার আশায়।’