নেইমারের ক্যারিয়ারে অর্জন কম নেই। সান্তোস ও বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন মহাদেশীয় ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি-কোপা লিবার্তোদোরেস ও চ্যাম্পিয়নস লিগ। ব্রাজিল ছাড়াও স্পেন ও ফ্রান্সে একাধিকবার জিতেছেন লিগ শিরোপা। তবে ব্যালন ডি’অর ও বিশ্বকাপ কখনো জিততে পারেননি।

তবে ‘সুখী মানুষ’ হিসেবে বেঁচে থাকার এই ধারণার উল্টো পিঠও দেখিয়েছেন নেইমার। বিশ্বকাপ জিততে না পারলে নেইমার হয়তো দুঃখ থাকবে না, তবে এই বিশ্বকাপ জয়ই আবার নেইমারের জীবনের সেরা স্বপ্ন, ‘বিশ্বকাপ (জয়) আমার সেরা স্বপ্ন। ফুটবল বোঝার সময় থেকে এই স্বপ্ন দেখে আসছি। এখন আরেকটি সুযোগ যেহেতু পাচ্ছি, তা কাজে লাগাতে চাই।’

ক্লাব সতীর্থ মেসি ও এমবাপ্পে এই টুর্নামেন্টে অন্তত মাঠের লড়াইয়ে নেইমারের প্রতিপক্ষ। তাঁদের কারও বিশ্বকাপ জয় মানে যে নেইমারের কাতার থেকে খালি হাতে ফেরা। বিশ্বকাপে শিরোপা জয় ছাড়া ব্রাজিলে যে আর কোনোকিছুই সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয় না।

ওদিকে বার্সেলোনার দিনগুলো থেকে মেসি নেইমারের বেশ কাছের বন্ধু। পিএসজিতে সেই সম্পর্ক আরও গাঢ় হয়েছে। বিশ্বকাপ জয় নিয়ে মেসির সঙ্গে খুনসুটি হয় কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে নেইমার বলেন, ‘আমাদের এ নিয়ে তেমন কথা হয় না। তবে মাঝেমধ্যে মজা করে বলি, ফাইনালে মুখোমুখি হয়ে যেতে পারি। তাকে (মেসি) বলি, তোমাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হব। এ নিয়ে হাসাহাসিও হয়। কিলিয়ান এবং তার সঙ্গে খেলাটা খুবই আনন্দের। দুজনই গ্রেট খেলোয়াড়। মেসি তো অনেক দিন ধরেই বিশ্বের সেরা।’

নেইমারের তারকাখ্যাতি ঈর্ষণীয়। বিতর্কও কম নেই। এই যে খ্যাতি এবং বিতর্ককে পাশাপাশি রেখে চলা, এই জীবনটা কেমন? কিংবা আরেকটু গভীরে বলা যায়, একজন নেইমার আসলে কেমন মানুষ? ঠিক এই প্রশ্নই করা হয়েছিল কাতার বিশ্বকাপে ব্রাজিলের এই ‘প্রাণভোমরা’কে। উত্তর দিলেন, ‘খ্যাতি ও ১০ নম্বর জার্সির চাপ নিয়েও আমি খুব সাধারণ মানুষ। সাধারণ থাকতে সব সময় মাটিতেই পা রাখি। আমিও মানুষ। আমারও দুঃখ-কষ্ট আছে। খেলোয়াড় ও মানুষ হিসেবে আমি যেমন, তা নিয়ে গর্ব হয়।’