সালাহ গোল দুটি করেছেন প্রথমার্ধে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এ নিয়ে টানা ম্যাচে গোল পেয়েছেন। ম্যাচের ৭০ মিনিটে ব্যবধান কমিয়েছেন হ্যারি কেইন। দুই অর্ধের স্কোরলাইনের মতোই বিরতির আগে ও পরে দাপট দেখিয়েছে দুই দল। শেষ দিকে টটেনহাম ফরোয়ার্ডরা বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট না করলে ও লিভারপুল গোলরক্ষক আলিসন বেকার দেয়াল হয়ে না দাঁড়ালে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে ফিরতে পারত টটেনহাম।

পুরো উল্টো অভিজ্ঞতা নিয়ে এ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। লিগে আগের দুই ম্যাচেই হেরেছে লিভারপুল। আর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা দুই ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও জিতেছে। রোববারও দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর তাই হাল ছাড়েননি আন্তোনিও কন্তের শিষ্যরা। তবে কঠিন পরীক্ষা দিয়ে উতরে গেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল।

লিভারপুলের আক্রমণভাগের কৌশল বুঝে উঠতেই ১৫ মিনিট চলে গেছে টটেনহামের। এ সময়ে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়া তো দূরের খেলা, বলটাও পেতে সংগ্রাম করতে হয়েছে। ততক্ষণে সালাহ–দারউইন নুনিয়েজ যুগলবন্দীতে এগিয়ে গেছে অলরেডরা।

ক্লপের দল শুরু থেকেই বাঁ প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে যাচ্ছিল। ১১ মিনিটে নুনিয়েজের তেমনই এক পাস থেকে বক্সের মাঝ বরাবর বল পেয়ে যান সালাহ। দারুণ ভলিতে জাল কাঁপাতে কোনো ভুল করেননি ৩০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

পিছিয়ে পড়ে যেন ঘুম ভাঙে টটেনহামের। আক্রমণভাগের যে প্রান্তে শক্তিশালী লিভারপুল, রক্ষণের ঠিক সে প্রান্তেই কমজোরি তারা। ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার আরনল্ডের এক ভুলে সমতা প্রায় এনেছিল টটেনহাম। ইভান পেরিসিচের হেড ফাঁকি দিয়েছিল আলিসনকেও। তবে ক্রোয়েশিয়ান তারকাকে হতাশ করে গোলবার। ২৭ মিনিটে আলেক্সান্ডার আরনল্ড আরেক ভুল করে বসেন। তাঁর কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন রায়ান সেসেগনন। এবার আরনল্ডকে বাঁচিয়ে দেন ইব্রাহিমা কোনাতে।

টটেনহাম ফরোয়ার্ডরা ভুল করলেও প্রথমার্ধে সালাহ ছিলেন নিখুঁত। হেড করতে গিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান এরিক ডায়ার। পাশেই ওত পেতে ছিলেন সালাহ। তাঁর মতো ফিনিশার এমন সুযোগ হেলায় হারানোর প্রশ্নই আসে না। লিভারপুল ২–০ টটেনহাম।

বিরতির পরের গল্পটা অবশ্য অতিথিদের পক্ষেই লেখা যায়। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা গোছানো ফুটবল খেলেছে তারা। ফল পেয়েছে ৭০ মিনিটে। ডেয়ান কুলুসেভস্কির পাস থেকে বাঁয়ে কোনাকোনি শটে ব্যবধান কমান হ্যারি কেইন। এক গোল শোধ করেই উত্তেজিত হয়ে পড়েন টটেনহাম কোচ কন্তে। রাগে বল ছুঁড়ে মারেন গ্যালারির দিকে। সেটার শাস্তি পান হলুদ কার্ড দেখে। চ্যাম্পিয়নস লিগেও নিজেদের শেষ ম্যাচে নিষিদ্ধ ছিলেন কন্তে। এ ম্যাচ দিয়ে ফিরলেও আচরণ বদলায়নি তাঁর। ৮২ ও ৮৯ মিনিটে দারুণ দুটি সুযোগ হাতছাড়া করে শিষ্যরাও বদলাতে পারেননি ম্যাচের ভাগ্য।