ইসরায়েলকে শাস্তি দিল ফিফা
২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশন (পিএফএ) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সদস্যপদ স্থগিতের দাবিসহ কিছু অভিযোগ করেছিল ফিফার কাছে। বিশ্ব ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা গতকাল জানিয়েছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে তারা কোনো ব্যবস্থা নেবে না।
তবে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি রায়ে বলেছে, একাধিক ‘গুরুতর ও পদ্ধতিগত’ বৈষম্যের অভিযোগে দোষী ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। যদিও ইসরায়েল ফুটবলের ওপর বড় ধরনের শাস্তি আরোপ থেকে শেষ পর্যন্ত বিরত থেকেছে সংস্থাটি।
শৃঙ্খলা ভাঙার অভিযোগে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (আইএফএ) ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা) জরিমানা করেছে ফিফা। এ বিষয়ে ইসরায়েলের বিপক্ষে অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ‘বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ’ এবং ‘আপত্তিকর আচরণ ও ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন’।
ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, পশ্চিম তীরের বসতি থেকে দলগুলোকে জাতীয় লিগে খেলার সুযোগ দিয়ে ফিফার বিধি লঙ্ঘন করছে ইসরায়েল। এ নিয়ে পিএফএর সুনির্দিষ্টি অভিযোগ ছিল ‘অন্য একটি অ্যাসোসিয়েশনের (ফিলিস্তিন) ভূখণ্ডে অবস্থিত ফুটবল দলগুলোকে নিজেদের জাতীয় লিগে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দিচ্ছে’ ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)।
ফিফা এ নিয়ে বলেছে, ‘ফিফার বিধির প্রাসঙ্গিক ধারাগুলোর ব্যাখ্যার প্রেক্ষাপটে পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখনো অনির্ধারিত এবং আন্তর্জাতিক জন আইনের অধীনে অত্যন্ত জটিল বিষয়। তাই এ ক্ষেত্রে ফিফার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।’
গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্রয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সময় ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছিলেন, ‘ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান করা ফিফার পক্ষে সম্ভব নয়।’ তিনি বলেছিলেন, ‘তবে চলমান যুদ্ধের কারণে যাঁরা কষ্ট পাচ্ছেন, তাঁদের কথা ভেবে ফুটবল ও ফিফা বিশ্বকাপের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সেতুবন্ধ গড়ে তোলা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
ইসরায়েলি ফুটবল নিয়ে তদন্ত ১৮ মাস আগে ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল। ফিফা জানিয়েছে, জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে’ ব্যয় করতে হবে ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের।
ফিফার বিচারকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘এই পরিকল্পনা ফিফার অনুমোদিত হতে হবে এবং একটি পূর্ণ মৌসুমজুড়ে সংস্কার, তদারকি এবং স্টেডিয়াম ও সরকারি মাধ্যমে শিক্ষামূলক প্রচারণার ওপর জোর দিতে হবে।’
বিচারকেরা আরও বলেন, ‘ফুটবল যে বৃহত্তর মানবিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়, তার প্রতি আমরা উদাসীন থাকতে পারি না। এই খেলাটি শান্তি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থাকতে হবে।’