বেলজিয়াম ০ : ১ ফ্রান্স
দুবার বল লাগল পোস্টে। একবার গোললাইন থেকে বল ফেরাল বেলজিয়াম, আরেকবার ফ্রান্স বাঁচল মাইক মাইনিওঁর নৈপূণ্যে। মনে হচ্ছিল, ব্রাসেলসে বেলজিয়াম–ফ্রান্স ম্যাচটা গোলশূন্যই শেষ হবে।
কিন্তু শেষ দিকে স্কোরলাইনটা বদলে দিলেন মাইকেল ওলিসে। বদলি নামা এই ফরোয়ার্ডের ৮৮ মিনিটে করা দুর্দান্ত গোলে ফ্রান্স জিতল ১-০ গোলে। জিনেদিন জিদান তাঁর ফ্রান্স কোচ অধ্যায়ে প্রথম দুটি ম্যাচই জিতলেন একই ব্যবধানে।
তুরস্কের বিপক্ষে আগের ম্যাচে জয় পাওয়া দল থেকে একটি পরিবর্তন আনতেই হতো জিদানকে। সে দিন চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া কিলিয়ান এমবাপ্পে এরই মধ্যে জাতীয় দল ছেড়ে রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে গেছেন।
তবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাত্র একটি নয়, একাদশে নয়টি পরিবর্তন এনেছেন ফ্রান্স কোচ। অভিষেকই করিয়েছেন তিনজনকে— আঁদি দিউফ, জেহেমি জ্যাকে ও লুকা দা কুইয়া। ২০১০ সালের আগস্টের পর ফ্রান্সের কোনো ম্যাচে একসঙ্গে তিন বা তার বেশি খেলোয়াড়ের অভিষেক এই প্রথম।
এমবাপ্পেবিহীন আক্রমণভাগ শুরু থেকেই অবশ্য বেলজিয়াম-রক্ষণে চাপ তৈরি করে গেছে। ১২ মিনিটে বক্সের মধ্যে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দেজিরে দুয়ে যে শট নেন, সেটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে ব্রাডলি বারকোলা বেলজিয়াম বক্সে পড়ে গেলে পেনাল্টি দাবি করে ফ্রান্স। তবে রেফারি সেই আবেদনে সাড়া দেননি।
বিরতির পরও ফ্রান্সের আক্রমণে ধার কমেনি। তবে গোল আসছিল না বলে নিয়মিত একাদশের খেলোয়াড়দের বেঞ্চ থেকে মাঠে নামাতে শুরু করেন জিদান। ৬৭ মিনিটে নামান উসমান দেম্বেলেকে, দশ মিনিট পর রায়ান শেরকি ও ওলিসেকে।
এর মধ্যে বেলজিয়ামও অবশ্য নিজেদের কিছুটা গুছিয়ে নেয়। ৭৩ মিনিটে প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে শট পায় বেলজিয়াম। দদি লুকেবাকিওর শট গোলকিপার মাইনিওঁ এগিয়ে এসে না আটকে দিলে পিছিয়েও পড়ত ফ্রান্স।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেন ফ্রান্সের বদলি নামা খেলেোয়াড়েরাই। ৮৮ মিনিটে শেরকির ক্রস নিজেদের অর্ধে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন ওলিসে। এরপর এক ডিফেন্ডারকে গতিতে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যান। বক্সে ঢোকার পরও তাঁকে থামাতে পারেনি বেলজিয়ামের দুই খেলোয়াড়। বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এনে দেন ১-০ গোলের জয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান আর গোলের ধরনে ফ্রান্স কোচ জিদানের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
শেষ পর্যন্ত ১৮টি শটের সাতটি লক্ষ্যে রেখে ১-০ ব্যবধানে ম্যাচ জেতে ফ্রান্স। বেলজিয়ামের ১২ শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মাত্র দুটি, দুটিই ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে।
উয়েফা নেশনস লিগ ‘এ’ গ্রুপে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ফ্রান্স। তিন পয়েন্ট করে নিয়ে দুই ও তিনে বেলজিয়াম ও ইতালি। দুই ম্যাচেই হেরে যাওয়া তুরস্ক চতুর্থ।