বিমানবন্দরে যেখানে নারী দলের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, সেখানে মেয়েরা পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি আরও বেগতিক হয়ে পড়ে। সংবাদকর্মী-ইউটিউবাররা পারলে মেয়েদের ওপর ক্যামেরা নিয়ে পড়েন! এমন একটা অবস্থা যে দাঁড়ানোর জায়গাটুকু পাওয়াও সমস্যা। এমনকি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নিজেরই দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না! চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করতে হয়।

default-image

বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনের জায়গায় যখন সবাই ভিড় জমিয়েছেন, তখন ভিআইপি লাউঞ্জে বসে ছিলেন মেয়েরা। অনেকেই তখন ফেসবুক লাইভ করতে শুরু করেছেন। মিডফিল্ডার মারিয়া মান্দা ফেসবুক লাইভে বাকি সব খেলোয়াড়কে দেখিয়ে দিলেন তাঁর ক্যামেরায়। গলায় ফুলের মালা পরে বসে ছিলেন মেয়েরা। অর্থাৎ ততক্ষণে বরণ করে নেওয়া হয়ে গেছে। বাকি ছিল সংবাদ সম্মেলন। লাইভে মান্দাও জানান, বাইরে প্রচুর সংবাদকর্মী থাকায় তাঁরা ভেতর থেকে বের হতে পারছেন না। তবে মেয়েরা লাইভে বেশ মজাই করছিলেন। মান্দা কৃষ্ণাকে ক্যামেরায় ধরার পর এই স্ট্রাইকার মজা করে বলেন, ‘ক, দুইটা গোল করছি।’ গত সোমবার নারী সাফের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩-১ গোলে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করেন কৃষ্ণা।

ভিআইপি লাউঞ্জ থেকে বের হয়ে ছাদখোলা বাসে ওঠে নারী ফুটবল দল। মেয়েরা বিমানবন্দরে নামার আগে সকাল থেকেই প্রচুর সমর্থক ভিড় জমান বিমানবন্দরে। সংবাদকর্মীরাও সকাল থেকেই ছিলেন সেখানে। ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগানে মুখর ছিল বিমানবন্দর এলাকা। সাম্প্রতিক অতীতে কোনো ইভেন্ট কাভার করতে এত সংবাদকর্মী বিমানবন্দরে এসেছেন কি না, সন্দেহ।

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকেও ছাত্রছাত্রীদের একটি দল এসেছিল বিমানবন্দরে মেয়েদের বরণ করে নিতে। ক্রিকেটে পড়ে থাকা সমর্থকেরাও এসেছেন; মেয়েদের সাফল্যে, দেশের সাফল্যে সবাই শামিল এককাতারে। বেশির ভাগের হাতেই ছিল বাংলাদেশের পতাকা।

তবে এই আনন্দঘন মুহূর্ত আরও পূর্ণতা পেত, যদি নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনটি হতো। তা এখন হবে চ্যাম্পিয়নরা বাফুফে ভবনে পৌঁছানোর পর। ছাদখোলা বাসে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এখন সেই পথেই এগোচ্ছে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন