ইতালির পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাঁরা
এমনই তো হওয়ার কথা ছিল।
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি এবার টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এরপর দলটির কোচিং স্টাফ থেকে ফেডারেশনেও বড় পরিবর্তন হওয়াটাই ছিল প্রত্যাশিত, ঘটেছে ঠিক সেটাই। পদত্যাগ করেছেন ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা। ইতালির ফুটবল প্রতিনিধিদলের প্রধানের দায়িত্ব ছাড়েন কিংবদন্তি গোলকিপার জিয়ানলুইজি বুফন। তারপর গতকাল ফেডারেশনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে ইতালির কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান জেনারো গাত্তুসো।
গাত্তুসোর সরে দাঁড়ানো প্রত্যাশিতই ছিল। এ কারণে গাত্তুসো সরে দাঁড়ানোর আগেই ইউরোপিয়ান সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন উঠেছিল, ইতালির পরবর্তী কোচ হতে পারেন কে?
ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘লা গাজেত্তা দেয়ো’ আলোচনায় চার কোচের নাম জানিয়েছিল—রবার্তো মানচিনি, আন্তোনিও কন্তে, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি ও পেপ গার্দিওলা। বিবিসি অবশ্য তাদের তালিকায় ম্যানচেস্টার সিটি কোচ গার্দিওলাকে রাখেনি। বাকি তিন কোচের সঙ্গে ফাবিও কানাভারো এবং স্তেফানো পিওলিকেও সম্ভাব্য কোচের তালিকায় রেখেছে বিবিসি।
মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি
বিবিসি জানিয়েছে, সমর্থকদের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকেই আছেন আলেগ্রি। ইতালিয়ান ফুটবলে দারুণ সব সাফল্য রয়েছে তাঁর।
গত বছরের মে মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে এসি মিলান কোচ হিসেবে সান সিরোতে ফেরেন এই কোচ। মিলানের দায়িত্ব ছেড়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে তাঁকে রাজি করানোটা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ইতালির নিচু সারির বিভিন্ন লিগে কোচিং করানোর পর ২০১০ সালে মিলানের কোচ হিসেবে নিয়োগ পান আলেগ্রি। ক্লাবটির হয়ে নিজের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌসুমেই সিরি আ শিরোপা জেতেন। এরপর দুই মেয়াদে জুভেন্টাসের কোচ হিসেবে আরও পাঁচটি সিরি আ শিরোপা জিতে গত বছর আবার মিলানে ফেরেন তিনি।
রবার্তো মানচিনি
৬১ বছর বয়সী মানচিনির কি তবে আবার ইতালির কোচ পদে ফেরার সুযোগ তৈরি হলো? মানচিনির অধীনেই ২০২০ ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইতালি। তাঁর হাত ধরে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল ‘আজ্জুরি’রা।
কিন্তু ২০২২ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৩ সালের আগস্টে পদত্যাগ করেন মানচিনি। এরপর সৌদি আরব জাতীয় দলের কোচ হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময় কাটিয়েছিলেন। বর্তমানে কাতারি ক্লাব আল-সাদের দায়িত্বে থাকা এই ইতালিয়ান কোচের ক্যারিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। ম্যানচেস্টার সিটিকে তাদের প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতানো ছাড়াও লাৎসিও এবং ইন্টার মিলানের হয়েও দারুণ সাফল্য পেয়েছেন মানচিনি।
আন্তোনিও কন্তে
২০২৭ সাল পর্যন্ত নাপোলির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এই ইতালিয়ান কোচ। তবে ইতালির সাবেক এই কোচের আবারও জাতীয় দলে ফেরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ৫৬ বছর বয়সী কন্তের অধীনে ২০১৬ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল ইতালি। কিন্তু ক্লাব ফুটবলে ফেরার তাড়নায় সে সময় তিনি পদত্যাগ করেন। ক্লাব ফুটবলে কন্তের সাফল্য আকাশচুম্বী; জুভেন্টাসের হয়ে টানা তিনবার সিরি আ জয়ের পাশাপাশি চেলসিকে জিতিয়েছেন প্রিমিয়ার লিগ ও এফএ কাপ। এরপর ইন্টার মিলান ও নাপোলির হয়েও লিগ শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন কন্তে।
ফাবিও কানাভারো
ইতালিয়ান ফুটবলে সোনালি দিন ফেরাতে জাতীয় দলের কোনো কিংবদন্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে? আগামী গ্রীষ্মে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা উজবেকিস্তানের ডাগআউটে দেখা যাবে কানাভারোকে। তবে এরপরই দেশের টানে ফিরবেন কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের এই অধিনায়ক রক্ষণভাগে যত বড় কিংবদন্তি, কোচ হিসেবে তাঁর ক্যারিয়ারের গ্রাফ অবশ্য এখনো ততটা উজ্জ্বল নয়।
স্তেফানো পিওলি
এসি মিলান ও ফিওরেন্তিনার সাবেক এই কোচ বর্তমানে কোনো দলের দায়িত্বে নেই। তাই জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সুযোগ এলে তিনি যে লুফে নেবেন, তা বলাই বাহুল্য। ৬০ বছর বয়সী এই কোচ এর আগে লাৎসিও এবং ইন্টার মিলানের ডাগআউটেও দাঁড়িয়েছেন। তবে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারে সাফল্যের খাতা খুব একটা ভারী নয়; বড় সাফল্য বলতে কেবল ২০২২ সালে এসি মিলানের হয়ে জেতা সিরি আ শিরোপা।