কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজনের দায়িত্ব পায় ২০১০ সালে। আয়োজক মর্যাদা পেতে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ থেকে শুরু করে এক যুগ ধরে শ্রমশোষণ, পরিবেশদূষণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে কাতারের বিরুদ্ধে। কাতার থেকে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়ার দাবিও জানান অনেকে।

তবে সব সমালোচনা এক পাশে রেখে বিশ্বকাপ আয়োজনের সব প্রস্তুতি সেরে নিয়েছে কাতার। ২০ নভেম্বর শুরু হয়ে যাবে ৩২টি দলের এই টুর্নামেন্টে। এমন সময় কাতারে আয়োজিত খেলা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ইউরোপের বেশ কিছু শহর। জার্মানির ফুটবল পানশালাগুলো যার অন্যতম।

বার্লিনের ফারগো ফুটবল বারের মুখপাত্র জসচিক পেচ এএফপিকে বলেন, ‘আমরা কাতারে বিশ্বকাপ আয়োজনের পক্ষে নই। খেলা আয়োজনের মাধ্যমে তারা এমনভাবে নিজেদের তুলে ধরছে, যেটা তারা আসলে নয়। যেখানে যৌনজীবন মুক্ত নয়, সেখানকার খেলা দেখে আমরা উপভোগ করতে পারি না।’

ফারগোর মতো বেশ কিছু ফুটবল বার আছে জার্মানিজুড়ে। বেশির ভাগই বিশ্বকাপের সময় খেলা না দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবশ্য ‘ফ্যান মাইল’সহ বেশ কিছু জায়গায় খেলা না দেখানোর কারণ হিসেবে জ্বালানি সাশ্রয় ও করোনা সংক্রমণ রোধের কথা বলেছে।

এর আগে কাতারের মানবাধিকার ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের অভিযোগ তুলে বিশ্বকাপের খেলা না দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয় ফ্রান্সের শহরগুলো।

মার্শেইয়ের মেয়র বেনয়ট পায়ান তাঁর শহরে বিশ্বকাপ বর্জনের কথা জানিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘কাতারের এই টুর্নামেন্টটা মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ে মোড় নিচ্ছে। খেলা, বিশেষ করে ফুটবলের মাধ্যম যে মূল্যবোধ ছড়িয়ে পড়ার আশা আমরা করি, কাতার সেটির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।’

মার্শেইয়ের মতো প্যারিস, লিল, বোর্দোও ফ্যান জোন স্থাপন না করার ঘোষণা দিয়েছে। প্যারিসের সিটি হলের ডেপুটি ইনচার্জ অব স্পোর্ট পিয়েরে বারাদান বলেন, ফ্যান জোন স্থাপনের প্রশ্নই আসে না।
লিলের সিটি কাউন্সিল খেলা না দেখানোর বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান মেয়র মার্টিন আবরি।