‘সহযোদ্ধা হয়ে স্বপ্ন পূরণ করতে চাই’

আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজরয়টার্স

প্রশ্ন :

ফাইনালে ফ্রান্সকে কীভাবে সামলাবেন?

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ: ফ্রান্সকে নিয়ে আমরা আগে থেকেই সতর্ক। কারণ, ওদের সঙ্গে শেষ ষোলো পর্বে আমাদের খেলতে হতে পারত। দলটার আক্রমণভাগের চার খেলোয়াড় খুবই বিপজ্জনক। ডিফেন্স বেশ ভালো, ভালো গোলরক্ষকও আছে। তবে এত কিছু না ভেবে আমাদের নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে। আমার মনে হয়, কাল (আজ) নির্দিষ্ট কেউ ব্যবধান গড়ে দিতে পারবে না। দলীয় লড়াইয়ে ভালো করা দলই জিতবে।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন

প্রশ্ন :

অনেকে বলছেন, আর্জেন্টিনার চেয়ে ফ্রান্স এগিয়ে আছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?

মার্তিনেজ: কোপা আমেরিকা ফাইনালেও ব্রাজিল ফেবারিট ছিল। এখন ফ্রান্সকে বলা হচ্ছে। আমাদের সুবিধা হলো দলে একজন বিশ্বসেরা (লিওনেল মেসি) আছেন। প্রতিপক্ষকে এগিয়ে রাখা হলে আমরা সেটাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখি। নিজেদের কখনো প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো কিংবা খারাপ মনে করি না। ডিফেন্স ভালো করলে আমাদেরই বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

আরও পড়ুন

প্রশ্ন :

শুরুতেই সৌদি আরবের কাছে হার। সেই ধাক্কা কাটিয়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াল আর্জেন্টিনা?

মার্তিনেজ: তখন মনে হয়েছিল আমাদের ঠান্ডা পানির বালতিতে চুবিয়ে রাখা হচ্ছে। সব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে চলেছে। এরপরেই আমরা দুস্মৃতি ঝেড়ে ফেলি। ভাবতে থাকি, কোনোভাবেই খালি হাতে বা বাজে কিছুকে সঙ্গী করে দেশে ফেরা যাবে না। ফাইনালে উঠতে আমরা সবকিছু করতে তৈরি ছিলাম। আর এখন এক ধাপ বাকি।

আরও পড়ুন

প্রশ্ন :

কাতারবাসীর সমর্থন আপনাদের কতটা অনুপ্রাণিত করেছে?

মার্তিনেজ: তারা আমাদের আপন করে নিয়েছে, আমরাও তাই। এখন মনে হচ্ছে আমরা এখানকার স্থানীয়। প্রতিটি ম্যাচেই অনুভব করেছি, আমরা যেন আর্জেন্টিনার কোনো মাঠে খেলছি। তাদের সমর্থন আমাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। গোলবারের পেছনে থাকা আর্জেন্টাইনরাও আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

আরও পড়ুন

প্রশ্ন :

কিলিয়ান এমবাপ্পে একবার বলেছিলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো ইউরোপীয়দের চেয়ে পিছিয়ে আছে। আপনার মত কী?

মার্তিনেজ: এ ধরনের কথা তারাই বলে, যাদের অন্য মহাদেশের দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা কম। কাল (আজকে) দেখিয়ে দেব।

প্রশ্ন :

বিশ্বকাপ জয়ের আকাঙ্ক্ষা জাগার অন্যতম কারণ মেসি—এ কথা বহুবার বলেছেন। তাঁকে দেখে কী মনে হচ্ছে?

মার্তিনেজ: অন্য সব আর্জেন্টাইনের মতো তাঁকেও হাসিখুশি থাকতে দেখছি। কোপা আমেরিকায় তাঁর সেরাটা দেখেছি। বিশ্বকাপে এসে তিনি সেটাকেও ছাড়িয়ে গেছেন। তাঁর মধ্যকার উদ্দীপনা-আনন্দ আমাদের ভালো খেলতে সহায়তা করছে।

আরও পড়ুন

প্রশ্ন :

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা কীভাবে দেখতে শুরু করেন?

মার্তিনেজ: ২০০৬ সালে আমি ছোট ছিলাম। কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে আর্জেন্টিনা টাইব্রেকারে হারার পর খুব কেঁদেছিলাম। ২০১৪ ফাইনালের সময় পরিবারের জন্য কাবাব রান্না করছিলাম। ২০১৮ ফাইনাল ভাইকে নিয়ে গ্যালারিতে বসে দেখেছি। সেদিনই ওকে বলেছি, পরের বিশ্বকাপ ফাইনালে তুমি আমাকে মাঠে দেখবে। আমি একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একজন যোদ্ধা। এবার সহযোদ্ধা হয়ে স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।