অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে তোপের মুখে শুটিং ফেডারেশন
নারী খেলোয়াড়দের যৌন হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্ট ফেডারেশন। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আর অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) ১ জানুয়ারি অভিযুক্ত যুগ্ম সম্পাদক জি এম হায়দার সাজ্জাদকে অব্যাহতি দেওয়ার ঠিক এর এক সপ্তাহ পর তাঁর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে শুটিং ফেডারেশন।
একই সঙ্গে সাংবাদিকদের তোলা হয়েছে কাঠগড়ায়। এতে আজ গুলশান জাতীয় শুটিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তীব্র তোপের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা ও দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছে ফেডারেশন কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া আমন্ত্রণপত্রের ব্যবহৃত ভাষা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। সংবাদ সম্মেলনের ব্যানারে লেখা ছিল ‘ফ্যাসিস্টের দোসরদের ষড়যন্ত্র ও দালিলিক সত্যের উদ্ঘাটন’।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা যখন ‘কোন সংবাদটি মিথ্যা’ বা ‘কারা ফ্যাসিস্টের দোসর’ জানতে চেয়ে এসব বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ চান, তখন কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক অভিনেত্রী ফেরদৌস আরা খানম (আলেয়া ফেরদৌস)। তোপের মুখে তিনি এক পর্যায়ে বলেন, সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি তিনি না পড়েই সই করেছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফেডারেশনের সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমা চাইছি। ’
তিন পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন, শুটার কামরুন নাহার কলি, তাসমায়াতি আলী এমা, সাবরিনা সুলতানা, শারমিন আক্তার রত্নাসহ ছয়জনের আনা অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’। অথচ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত কমিটি এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়েই জি এম হায়দার সাজ্জাদকে ১০ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করে এবং প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগেই তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও ফেডারেশন কেন অভিযুক্তের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি তাঁর অব্যাহতির বিষয়টি। এখনো কোনো চিঠি পাইনি। তাঁকে আমরা কর্মকাণ্ডের বাইরে রাখছি। নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমরা তাঁর ব্যাপারে অবস্থান নির্ধারণ করব।’
অভিযোগ আছে, অব্যাহতি পাওয়ার পরও হায়দার ফেডারেশন কার্যালয়ে যান এবং আজও গিয়েছেন। এ নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের ব্যাখ্যা, ‘কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতার জন্যই তিনি এসেছেন।’
অব্যাহতি পাওয়া সাবেক যুগ্ম সম্পাদকের বিরুদ্ধে শুটারদের অভিযোগকে শুধু ‘মিথ্যা’ই নয়, ‘হীন স্বার্থে’ এসব করা হচ্ছে বলেও সাধারণ সম্পাদক তাঁর লিখিত বক্তব্যে দাবি করেন। তিনি এ–ও বলেছেন, ‘যারা দেশের সম্মানকে জিম্মি করে নিজেদের ক্ষমতা ফিরে পেতে চায়, তারা ক্রীড়াঙ্গন ও জাতির শত্রু।’
শুটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো অস্ত্র ও গুলির স্টোর। নিয়মানুযায়ী এর লকের পাসওয়ার্ড সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের কাছে থাকার কথা থাকলেও তা ছিল যুগ্ম সম্পাদক হায়দারের কাছে। সিসিটিভি ফুটেজ মাত্র সাত দিন পর মুছে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাধারণ সম্পাদক জানান, সভাপতির নির্দেশেই হায়দারকে পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়েছিল।
লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেডারেশনের বর্তমান কার্যনির্বাহী পর্ষদ, ক্যাম্পভুক্ত শুটারগণ (বিশেষ করে নারী শুটারগণ) অত্যন্ত কৌশলীভাবে আমাদের সম্মানিত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে একটি সুসংগঠিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান খাঁন জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্ত চলছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নতুন তদন্ত প্রক্রিয়ার কারণে এনএসসির আগের সুপারিশগুলো আপাতত কার্যকারিতা হারাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।