বলছেন মারিও কেম্পেস

‘এই ম্যাচ বিরক্তিকর না হওয়ারই কথা’—সাক্ষাৎকারে কেম্পেস

১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক তিনি। সেই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল ও বুটও পেয়েছিলেন মারিও কেম্পেস। আজ আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা নামার আগে এই কিংবদন্তি জানিয়েছেন তাঁর ভাবনা—

প্রশ্ন:

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লাওতারো মার্তিনেজের গোল—এমন একটা গোল কি একজন খেলোয়াড়ের জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়?

মারিও কেম্পেস: এটা এমন একটা গোল, যা কেউ কখনো ভুলবে না। লাওতারো নয়, আমি নই, টিভি পর্দায় সরাসরি দেখা আর্জেন্টিনার সমর্থক—কারও পক্ষেই ভোলা সম্ভব নয়। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে গোল করার সৌভাগ্য সবার হয় না, লাওতারো সেটা করে দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শহরে আমি আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সমর্থক দেখছি। খেলোয়াড়েরাও ভক্তদের ভালোবাসা উপভোগ করছে।

আরও পড়ুন
প্রশ্ন:

এর আগেও তো লাওতারো চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিতে গোল করেছেন। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে গোল করা কি তাঁকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল?

কেম্পেস: দেখুন, বিশ্বকাপ বিশ্বকাপ-ই। এর সঙ্গে আর অন্য কোনো কিছুর তুলনা হয় না। ও এখনই বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। ইন্টারের হয়ে, জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে। মনে রাখবেন, ইন্টারে সে বিদেশি হয়েও দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছে, অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পেয়েছে।

ফাইনালে ওঠার পর লি্ওনেল মেসিকে কাঁধে তুলে উদ্‌যাপন আর্জেন্টিনা দলের
রয়টার্স
প্রশ্ন:

ফাইনালও কি সে বেঞ্চে থেকেই শুরু করবে, কী মনে হয়?

কেম্পেস: আমি আসলে ঠিক জানি না। আমি শুধু জানি, আর্জেন্টিনার কৌশলে মেসির সঙ্গে একজন স্ট্রাইকারের প্রয়োজন পড়ে। সেটা হুলিয়ান আলভারেজ হতে পারে, আবার লাওতারো মার্তিনেজও হতে পারে। ফুটবল এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে, বেঞ্চ থেকে নেমেও ম্যাচের গতি পরিবর্তন করে ফেলতে পারে অনেকে। সে যে খেলাটা দেখিয়েছে, সেমিফাইনালের জন্য সেটাই ছিল উপযুক্ত।

আরও পড়ুন
প্রশ্ন:

লাওতারো আর হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে আপনি কাকে এগিয়ে রাখবেন?

কেম্পেস: আমি আসলে দুজনকে কোনো তুলনায় আনতে চাই না। দুজনই নিজেদের কাজটা সঠিকভাবে করে আর মেসি তাদের কাজ সহজ করে দেয়।

প্রশ্ন:

আপনিও তো ফরোয়ার্ড ছিলেন। ফরোয়ার্ড হিসেবে দুজনকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

কেম্পেস: লাওতারো পেনাল্টি বক্সের খেলোয়াড়, ওর জন্মই হয়েছে গোল করার জন্য। অন্যদিকে হুলিয়ান সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়, ডিফেন্সকে নিয়ে খেলতে পছন্দ করে সে। আশা করি, কালকের (আজ) পর বলতে পারব, দুজনই দুবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। স্কালোনি খুব ভাগ্যবান, এমন দুজন খেলোয়াড় একসঙ্গে তাঁর কাছে আছে। ম্যাচের পরিস্থিতি দেখে সে যাকে ভালো মনে করে তাকে নামাবে।

রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন–আর্জেন্টিনা
এএফপি
প্রশ্ন:

মাঠে নামার আগে যদি লাওতারো মার্তিনেজের সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে তাঁকে কী বলবেন?

কেম্পেস: নিজের মতো খেলো। তুমি যেটা সব সময় করে এসেছ, সেটাই করো। বড় খেলোয়াড় চাইলে বড় ম্যাচকে আর দশটা সাধারণ ম্যাচের মতো করেই ভাবতে হবে। এতে মাথায় আর বাড়তি কোনো চাপ পড়ে না। লাওতারো এর আগেও চাপের মধ্যে নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছে, ওকে তাই আর বাড়তি কিছু বলার প্রয়োজন দেখি না।

প্রশ্ন:

কেমন ফাইনাল দেখবেন বলে আশা করছেন?

কেম্পেস: আশা তো করছি একটা টান টান উত্তেজনার জমজমাট ম্যাচ দেখার। কিন্তু সেটা তো আর সব সময় হয়ে উঠে না। দুই ফেবারিট দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে, জমজমাট হওয়ারই কথা। সমানে সমানে একটা খেলা হবে। যে মাঠে বল ধরে রেখে প্রতিপক্ষের ওপর প্রেস করতে পারবে, তারাই ভালো করবে। কারণ, আর্জেন্টিনাও যেমন এই কৌশলে পারদর্শী, স্পেনও একইভাবে পারদর্শী। এককথায় বলা যায়, পোট্রেরো বনাম টিকিটাকা। রাস্তায় বড় হওয়া অনিশ্চিত ফুটবল বনাম ছকে বাঁধা ফুটবল; এই ম্যাচ বিরক্তিকর না হওয়ারই কথা।

আরও পড়ুন