ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর, হরমুজ খুলে দেওয়ার আহ্বান
যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে টানাপোড়েনের মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
এই আলাপে সানায়ে তাকাইচি হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বলে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা শুরুর পর যুদ্ধ বাধে মধ্যপ্রাচ্যে। এপ্রিলের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও তার মধ্যেও পাল্টাপাল্টি হামলা থেমে নেই।
এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
এমন প্রেক্ষাপটেই গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে প্রায় ১৫ মিনিট কথা বলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সক্রিয়ভাবে যুক্ত না হওয়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার ওপর জোর দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান সর্বোচ্চ নমনীয়তা প্রদর্শনের মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে।
পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাসহ ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন বলে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়।
এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা বিশ্বের জ্বালানি তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ।
এ কারণে এশিয়ার অন্য দেশগুলোর পাশাপাশি জাপানকেও ভুগতে হচ্ছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে চাপ বাড়াচ্ছে অর্থনীতিতে। যেমন পেট্রোলিয়াম উপজাত ন্যাপথার–সংকট এখন জাপানের প্যাকেজিং শিল্পের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
তবে সম্প্রতি জাপান-সংশ্লিষ্ট কিছু জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে দেখা গেছে। প্রধান তেল শোধনাগার ইদেমিৎসু কোসানের একটি ট্যাংকারও এর মধ্যে রয়েছে। গত ২৫ মে এটি জাপানে এসে পৌঁছায়।
আলোচনায় তাকাইচি যত দ্রুত সম্ভব, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাপান, এশীয় দেশগুলোসহ সব দেশের জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
ইরানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জাপানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, পেজেশকিয়ান জবাবে তাকাইচিকে বলেছেন যে জাপানি জাহাজগুলো যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে ইরান। তবে তিনি এটিও বলেন যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ নিষেধাজ্ঞা এ ক্ষেত্রে একটি বাধা।
তাকাইচির সঙ্গে আলাপে পেজেশকিয়ান ইরানের পুনর্গঠন প্রচেষ্টায় জাপানের সহায়তাও কামনা করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে জাপানি প্রযুক্তি ইরানের তেল শোধনাগার, বন্দর ও অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।
পাশাপাশি তিনি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ওষুধপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও টোকিওর সাহায্য চান।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তাকাইচি ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে এটি ছিল তৃতীয় টেলিফোন সংলাপ। সর্বশেষ তাঁরা গত ৩০ এপ্রিল কথা বলেছিলেন।