আজকের বৈঠকে আঞ্চলিক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তিনি এ–ও বলেন, ‘খুব বেশি উদ্বিগ্ন হবেন না। খুব বেশি ভয় পাওয়ার দরকার নেই। চীন আপনাদের পাশে রয়েছে।’
তবে এ অঞ্চলের দেশগুলো ওয়াং ই-কে হতাশই করেছে। চীনের প্রস্তাবিত ‘চায়না–প্যাসিফিক আইল্যান্ড কান্ট্রিজ কমন ডেভেলপমেন্ট ভিশন’ নামের পাঁচ বছরের কর্মকৌশল চুক্তিতে সম্মতি দেয়নি দেশগুলো। এতে স্থানীয় পুলিশকে প্রশিক্ষণ প্রদান, সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক মানচিত্র তৈরি এবং ভূমি ও সামুদ্রিক সম্পদের প্রাপ্যতা নিশ্চিতে দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ার কথাও বলা হয়েছিল ওই চুক্তিতে।

চীনের এ প্রস্তাবনা আমাদের জীবদ্দশায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে ফেলবে। এমনকি নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ কিংবা সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতিতে নতুন একটি বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটাতে পারে।
ডেভিড পানুয়েলো, ফেডারেশন অব স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়ার (এফএসএম) প্রেসিডেন্ট।

এ বিষয়ে গত সপ্তাহে ফাঁস হওয়া একটি চিঠিতে আঞ্চলিক সংগঠন ফেডারেশন অব স্টেটস অব মাইক্রোনেশিয়ার (এফএসএম) প্রেসিডেন্ট ডেভিড পানুয়েলো বলেছিলেন, ‘চীনের এ প্রস্তাবনা আমাদের জীবদ্দশায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে ফেলবে। এমনকি নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ কিংবা সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতিতে নতুন একটি বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটাতে পারে। তাই এ প্রস্তাবে একমত হতে পারে না আঞ্চলিক দেশগুলো।’

আজকের বৈঠকে ফিজি, সামোয়া, টোঙ্গা, কিরিবাতি, পাপুয়া নিউগিনি, ভানুয়াতু, নিউই ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো পাঁচটি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও আলোচনা করতে হবে। পাঁচটি খাতের মধ্যে করোনা–পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থাকলেও নিরাপত্তার বিষয়টি নেই।

এদিকে ফিজির প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বেইনিমারামার সঙ্গে আজ আলাদা বৈঠক করেন ওয়াং ই। বৈঠক শেষে ফিজির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো ঐকমত্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অন্যদিকে আঞ্চলিক চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি ইঙ্গিত করে পাপুয়া নিউগিনির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরোই ইয়ো বলেন, ‘আমরা বরং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য চীনের সঙ্গে চুক্তি করতে চাই।’

সলোমন দ্বীপপুঞ্জে প্রভাব বিস্তারে চীন সম্প্রতি দেশটির সঙ্গে চুক্তিও করেছে, যা পশ্চিমা বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে এবারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে বেইজিং, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো ঐকমত্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ফ্রাঙ্ক বেইনিমারামা, ফিজির প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক বেঞ্জামিন হারসকোভিচ বলেন, এবারই শেষ নয়। এরপর চীন এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক এবং কারিগরি সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করবে। সর্বোপরি চুক্তি সইয়ের জন্য মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির চেষ্টা করবে।

সুভায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত কিয়ান বোর ভাষ্যে তেমনই ইঙ্গিত মেলে। আজ তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে চীনের চমৎকার কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি সই না হওয়া পর্যন্ত প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে চীন।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরুর আগে আজ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত বার্তায় সি চিন পিং বলেন, চীন এ অঞ্চলের দেশগুলোর ‘একজন ভালো ভাই’ হতে চায়।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন