বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন। তবে দেশটিতে জনসংখ্যার বৃদ্ধি দ্রুত কমে আসছে। এ কারণে দম্পতিদের সন্তান গ্রহণে উৎসাহিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। গত মে মাসে সরকার ঘোষণা দিয়েছে, দম্পতিরা চাইলে দুজনের বেশি সন্তান নিতে পারবেন।

এর পর থেকে শানজিসহ ১৪টি প্রদেশ পরিবার পরিকল্পনার স্থানীয় নিয়মনীতি ও আইন সংশোধন করেছে বা জনমত যাচাই করছে। এর অংশ হিসেবে সন্তান নিলে নারী ও পুরুষ কর্মীর সবেতন ছুটি বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। দেশটির কয়েকটি প্রদেশে কর্মীদের জন্য ‘শিশুর বেড়ে ওঠার ছুটি’ নামে নতুন একধরনের ছুটি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় যেসব কর্মীর ৩ বছর বা এর কমবয়সী সন্তান রয়েছে, তাঁরা ছুটি নিতে পারবেন। দক্ষিণাঞ্চলীয় হাইনান প্রদেশ কর্মীদের তিন বছর বা এর কমবয়সী সন্তানের দেখভালের জন্য প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে ছুটি দিচ্ছে।

চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকার প্রত্যন্ত শহর ও গ্রামে সন্তানের জন্মহার আশঙ্কাজনক হারে কমতে শুরু করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হেইলংজিয়াং প্রদেশের সরকার সেখানকার সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দম্পতিদের চারটি সন্তান নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চীনে এক সন্তান নীতি কার্যকর ছিল। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমতে শুরু করায় ২০১৬ সালে দেশটি কয়েক দশকের পুরোনো এ আইন থেকে সরে আসে। চালু হয় দুই সন্তান নীতি। এতে দম্পতিরা একের অধিক সন্তান নেওয়ার সুযোগ পান। তবে আইনের এই পরিবর্তনে খুব একটা সুফল মেলেনি। চলতি বছর দেশটিতে তিন সন্তান নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় দম্পতিদের।

মূলত জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় চীনা দম্পতিদের সন্তান গ্রহণের আগ্রহ বৃদ্ধির পথে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে রয়ে গেছে। তাই সন্তান গ্রহণে দম্পতিদের উৎসাহ দিতে সরকারি প্রণোদনা, কর্মক্ষেত্রে ছুটি বাড়ানোসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও দম্পতিদের চারটি পর্যন্ত সন্তান নিতে সরকারের পক্ষ থেকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

১৯৬০-এর দশকের পর বর্তমানে চীনে সন্তান জন্মের হার সবচেয়ে কম। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস গত এপ্রিলে জানিয়েছে, গত বছর দেশটিতে ১ কোটি ২০ লাখ শিশুর জন্ম হয়েছে। ২০১৬ সালে দেশটিতে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুর জন্ম হয়।

চীন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন