পার্টি কংগ্রেস কী

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় কংগ্রেস শুধু ‘পার্টি কংগ্রেস’ নামে পরিচিত। মূলত নতুন নেতা নিয়োগে এই কংগ্রেস বসে।

কংগ্রেসে দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হয়। দেশের জন্য একটি নীতি অ্যাজেন্ডা তৈরি করা হয়।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যসংখ্যা ৯ কোটি ৬৭ লাখ। দলটির কংগ্রেস সাধারণত অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়। কংগ্রেসে পুরো দেশ থেকে ২ হাজার ২৯৬ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। প্রতিনিধিরা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ২০৪ জন সদস্য বাছাই করবেন।

কেন্দ্রীয় কমিটি পরে ২৫ সদস্যের পলিটব্যুরো নির্বাচন করবেন। পলিটব্যুরো থেকে হবে ৭ সদস্যের স্ট্যান্ডিং কমিটি। চীনের সর্বসময় ক্ষমতার অধিকারী এই কমিটি।

কেন্দ্রীয় কমিটি দলের সর্বোচ্চ নেতা বা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করে। কংগ্রেসের ধারাবাহিকতায় দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবার সির নাম ঘোষণা করা হতে পারে।

আগামী মার্চ মাসে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বার্ষিক বৈঠক বসবে। সি দলের সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকলে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের বৈঠকে তাঁকে আরেক মেয়াদের জন্য প্রেসিডেন্ট করা হবে।

কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকতা মাত্র

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে ভোট হলেও প্রক্রিয়াটিকে একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়। এটা সত্যিকারের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নয়। কংগ্রেসের অনেক আগেই ‘আসল’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কংগ্রেস শেষ হওয়ার পরপরই নবগঠিত ২০তম কেন্দ্রীয় কমিটি তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের জন্য মিলিত হবে। এই অধিবেশনে পলিটব্যুরো ও স্ট্যান্ডিং কমিটি নির্বাচিত হবে।

সি ইতিমধ্যে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেকাংশে নির্মূল করেছেন বলে মনে করা হয়। তিনি দলের প্রবীণ নেতাদের শক্তিও কমিয়ে দিয়েছেন। এই প্রবীণ নেতারা অতীতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

কখন জানা যাবে

কেন্দ্রীয় কমিটির কর্তৃক নির্বাচিত হওয়ার পর দলের নতুন শীর্ষ নেতারা গুরুত্বের ক্রমানুসারে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে প্রবেশ করবেন।

নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সি ২০১৭ সালের মতো এবারও শীর্ষ নেতাদের এই দলকে আনুষ্ঠানিকতায় নেতৃত্ব দিতে পারেন। নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটির অন্য সদস্যদের তিনি পরিচয় করিয়ে দেবেন। এই আনুষ্ঠানিকতা চীনের জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে।

কারা স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলেন সেদিকে নজর থাকবে চীনা পর্যবেক্ষকদের। কারণ, সির নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আছে নাকি তিনি কোনো ছাড় দিয়েছেন, তা এই কমিটি দেখে বোঝা যাবে।

একই সঙ্গে এই কমিটির মধ্যেই একজন সম্ভাব্য উত্তরসূরি খুঁজবেন পর্যবেক্ষকেরা। সি কত দিন শাসন করতে চান, সে বিষয়ে একটি সূত্র দিতে পারে এই কমিটি।

এবারের কংগ্রেস কেন ভিন্ন

সাধারণত প্রতি কংগ্রেসে নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের কংগ্রেস থেকে সি ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন। তিনি দল, রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তৎপর হন।

যেমন গত কংগ্রেসে সি একটি ঐতিহ্য ভাঙেন। তিনি স্ট্যান্ডিং কমিটিতে সম্ভাব্য কোনো উত্তরসূরিকে উন্নীত করেননি।

তারপর কয়েক মাস পর চীনের ‘রাবার-স্ট্যাম্প’ আইনসভা দেশটির প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সীমা বাদ দেয়। সি যে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে চান, এই পদক্ষেপে তার ইঙ্গিত মেলে। পাশাপাশি তিনি দলের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেন।

দলের সাধারণ সম্পাদকের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মেয়াদসীমা নেই। তবে দলের শীর্ষস্থানের ভূমিকায় থাকার জন্য সিকে আরেকটি অলিখিত নিয়ম ভাঙতে হবে। সেটি হলো, অনানুষ্ঠানিক বয়সসীমা।

নিয়মটি হলো, দলের কংগ্রেসের সময়ে ৬৮ বছর বা তার বেশি বয়সী জ্যেষ্ঠ নেতারা অবসর নেবেন। সির বয়স এখন ৬৯ বছর। তিনি ক্ষমতায় থাকার মাধ্যমে নিয়মটিকে ভাঙতে যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পলিটব্যুরোর অন্য সদস্যদের এই ছাড় তিনি দেবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।