বড় ঘটনার সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় গণমাধ্যম বিবিসি। কয়েক কোটি দর্শকের অধিকাংশই টানবে গণমাধ্যমটি। শেষকৃত্যের দিন সম্প্রচারে বিবিসি নিজেদের মূল চ্যানেল বিবিসি ওয়ান এবং বিবিসি টু’র দিকে ঝুঁকেছে। চ্যানেল ফোর, স্কাই ও চ্যানেল ফাইভও তাদের উল্লেখযোগ্য সম্পদ ও সময় শেষকৃত্য সম্প্রচারে নিয়োজিত করার ঘোষণা দিয়েছে।

চ্যানেলগুলোর এসব আয়োজনের মানে হলো, কিছু সম্প্রচারও যদি দর্শকেরা দেখেন, তাহলে সংখ্যার দিক থেকে সেটা সবচেয়ে বেশি দেখা দুটি ঘটনা—১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় এবং ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস অব ওয়ালেস ডায়ানার শেষকৃত্যের দর্শকদের ছাড়িয়ে যাবে।

তড়িঘড়ি করে ঘোষিত ব্যাংক ছুটির দিন অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। আর করোনা বিধিনিষেধের কারণে সিনেমা হল, সুপারমার্কেটসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়ভাবে আধা বেলা ছুটিতে রয়েছে। বন্ধ থাকছে ম্যাকডোনাল্ড। এতে দর্শক আরও বাড়তে পারে।

মাল্টিমিডিয়া ম্যাগাজিন হিটের বিনোদন পরিচালক বয়ড হিলটন বলেন, বিশাল না হয়ে উপায় নেই। এটা দীর্ঘসময় ধরে চলবে। ফলে অনেকেই অন্তত সম্প্রচারের কিছু অংশ হলেও দেখার সুযোগ পাবেন। একটা সময় রেকর্ডসংখ্যক দর্শক নিয়ে সেটি চূড়ায় পৌঁছাবে।

শ্রোতা পরিসংখ্যানবিষয়ক ওভারনাইটস ডট টিভির সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, ইতিমধ্যে রানির মৃত্যুর দিনটিই টেলিভিশনের সর্বোচ্চসংখ্যক দর্শকের তালিকায় শীর্ষে পৌঁছে গেছে। দিনের মধ্যভাগ থেকে দিবাগত রাত দুইটা নাগাদ বিবিসি ও সংবাদ প্রকাশকারী চ্যানেলগুলো দেখেছেন ৩ কোটি ৩০ লাখ দর্শক। তবে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় দাপ্তরিকভাবে রানির মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার মুহূর্তে একক সময় হিসেবে চ্যানেলে সর্বোচ্চ দর্শক ছিল ৯৮ লাখ ৩০ হাজার।

সাধারণত কোন ঘটনা বা কোন আয়োজন সম্প্রচার টেলিভিশনের মতো গণমাধ্যমগুলোর জন্য আয়ের বড় সুযোগ। এক্স ফ্যাক্টর ফাইনাল কিংবা কোনো টুর্নামেন্টের শেষের দিকে ইংল্যান্ডের একটি খেলা সম্প্রচারের সময় ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন বিরতি দিয়ে প্রচুর পাউন্ড আয় করে থাকে তারা। কিন্তু বাকিংহাম প্যালেসের সঙ্গে একটি প্রটোকল চুক্তি অনুসারে রানির মৃত্যুর পর সপ্তাহান্তে বেশির ভাগ সময় টিভি বিজ্ঞাপন পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

সংবাদপত্র, রেডিও স্টেশনসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেমন স্ন্যাপচ্যাট ও টুইটার এবং আউটডোর বিজ্ঞাপন জায়ান্ট জেসিডেকাক্স , ক্লিয়ার চ্যানেলসহ যুক্তরাজ্যের প্রায় প্রতিটি গণমাধ্যমের মালিক এই প্রটোকল মেনে চলেছেন। এই বিরতি আজকের শেষকৃত্যেও আবার প্রয়োগ করা হবে।

প্রথম বিজ্ঞাপনমুক্ত সম্প্রচারের পর শোক পালনের সময়ও টিভিতে সব সংবাদ ও রাজকীয়-থিমযুক্ত অনুষ্ঠান থেকে বিজ্ঞাপন বাদ দেওয়া হয়েছিল। অনুরূপ বিধিনিষেধ অন্যান্য বেশির ভাগ গণমাধ্যম অনুসরণ করেছিল। এ সময় টিভি কোম্পানিগুলো অন্য সব বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপগুলোও যাচাই করে ছেড়েছে, যাতে কোনো ‘অসংবেদনশীল বা অনুপযুক্ত’ বিষয় প্রচারিত না হয়।

যুক্তরাজ্যের মিডিয়া এজেন্সির একজন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বলেন, ‘আমরা গণমাধ্যমের মালিকদের লাখ লাখ পাউন্ডের বিজ্ঞাপন প্রচারের লোকসানের কথা বলছি। গণমাধ্যমের জন্য এটি এমন ধরনের একটি ঘটনার সম্প্রচার, বাণিজ্যিকভাবে যেমনটা আগে কখনো হয়নি।’

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন