সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট

এ পর্যায়ে ওয়েস্টমিনস্টার হল থেকে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের জন্য রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মরদেহবাহী কফিনটি নিয়ে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবের দিকে রওনা করা হবে। রয়েল নেভির স্টেট গান ক্যারেজে করে রানির কফিনটি নেওয়া হবে। নৌবাহিনীর ১৪২ জন কর্মকর্তা দড়ি–বাঁধা গাড়িটি টেনে নিয়ে যাবেন। গাড়িটিকে সর্বশেষ প্রিন্স ফিলিপের চাচা লর্ড মাউন্টব্যাটেনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। এর আগে ১৯৫২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা ষষ্ঠ জর্জের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়ও এটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

গাড়িটির পেছন পেছন প্রিন্স উইলিয়াম, প্রিন্স হ্যারিসহ রাজপরিবারের সদস্যরা শোকযাত্রায় অংশ নেবেন।

রয়েল এয়ারফোর্স ও গুর্খার সদস্যদের পাশাপাশি স্কটিশ ও আইরিশ রেজিমেন্টের বাদক দলও এ আয়োজনে অংশ নেবে। ওয়েস্টমিনস্টার হল থেকে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে পর্যন্ত সড়কে সারিবদ্ধভাবে রয়েল নেভি ও রয়েল মেরিনসের সদস্যরা দাঁড়িয়ে থাকবেন। পার্লামেন্ট স্কয়ারে তিন সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। তাদের সঙ্গে থাকবে রয়েল মেরিনসের বাদক দল।

বেলা ১১টা

ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে রানির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান শুরু হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানসহ দুই হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যে মূলত রাজা ও রানির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করা হয়। এ ধরনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় কঠোর প্রটোকল বিধি অনুসরণ করা হবে।

ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে হলো সেই ঐতিহাসিক গির্জা, যেখানে ব্রিটেনের রাজা ও রানিকে মুকুট পরানো হয়ে থাকে। ১৯৫৩ সালে রানির অভিষেক অনুষ্ঠানও এখানেই হয়েছিল। ১৯৪৭ সালে এই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতেই প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে দ্বিতীয় এলিজাবেথের বিয়ে হয়েছিল।

তবে অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে কোনো রাজা বা রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়নি। ২০০২ সালে এ গির্জায় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়েছিল।

আজ সোমবার ডিন অব ওয়েস্টমিনস্টার ডেভিড হোয়েল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন। ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি ধর্মীয় বক্তব্য দেবেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসও ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করবেন।

বেলা ১১টা ৫৫ মিনিট

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায় এটি। এ সময় অন্তিম সুর ‘দ্য লাস্ট পোস্ট’ বাজানো হবে। এরপর জাতীয়ভাবে দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং রানির বাদক দলের করুণ সুর বাজানোর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা নাগাদ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান শেষ হবে।

দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট

রানির কফিনবাহী গাড়িটিকে টেনে টেনে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবে থেকে ওয়েলিংটন আর্চে নিয়ে যাওয়া হবে।

এ রাস্তায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকবেন। বিগ বেন থেকে এক মিনিট পরপর ঘণ্টা বাজানো হবে। শোকযাত্রাটি খুব ধীরে রাজধানীর রাস্তা দিয়ে যাবে।
হাইড পার্ক থেকে প্রতি মিনিটে তোপধ্বনি করা হবে। সাধারণ মানুষ এই শোকযাত্রা কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে দেখতে পাবে।

এই শোকযাত্রায় রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ নেতৃত্ব দেবে। যাত্রাটি সাতটি ভাগে থাকবে। প্রতিটি ভাগের অগ্রভাগে থাকবে আলাদা বাদক দল। যুক্তরাজ্য এবং কমনওয়েলথের সেনাবাহিনী শোকযাত্রায় থাকবে। পুলিশ, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এ সময় রাজা তৃতীয় চার্লস আরও একবার রাজপরিবারের সদস্যদের শোকযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন।

কুইন কনসর্ট, প্রিন্সেস অব ওয়েলস, কাউন্টেস অব ওয়েসেক্স ও ডাচেস অব সাসেক্স গাড়িতে চড়ে এ শোকযাত্রায় অংশ নেবেন।

বেলা ৩টা

উইন্ডসর ক্যাসেলে ঢোকার জন্য পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ লং ওয়াকে আরেকটি শোকযাত্রা হবে। এই সড়কের দুই ধারে সেনাসদস্যরা দাঁড়িয়ে থাকবেন।
পরের রাজা এবং রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা উইন্ডসর ক্যাসেলের ভেতর কোয়ার্ডরেঙ্গেলের কর্টেজে যোগ দেবেন।

বিকেল ৪টা

কিছু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য সেন্ট জর্জেস চ্যাপেল গির্জায় কফিনটি নেওয়া হবে। রানির প্রয়াত স্বামী প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য এ গির্জাতেই হয়েছিল।
অপেক্ষাকৃত কম মানুষ সমবেত হওয়ার সুযোগ থাকবে এখানে। ক্যান্টারবারির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবির আশীর্বাদ নিয়ে উইন্ডসরের ডিন ডেভিড কনার ধর্মসভা পরিচালনা করবেন।

এ সময় রানির মুকুট, রাজকীয় গোলক ও রাজদণ্ড শেষবারের মতন সরিয়ে নেওয়া হবে কফিন থেকে। আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতার পরা রানির কফিন রয়েল ভল্টে নামানো হবে। বাঁশিবাদক দল প্রার্থনা এবং ‘গড সেভ দ্য কিং’ গাইবেন।

বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিট

রাজা এবং রাজপরিবারের সদস্যরা চ্যাপেল ছেড়ে যাবেন।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা

পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সেন্ট জর্জেস চ্যাপেলের অভ্যন্তরে অবস্থিত রাজা ষষ্ঠ জর্জ মেমোরিয়াল চ্যাপেল সমাধিতে রানিকে তাঁর প্রয়াত স্বামী ফিলিপের সমাধির পাশে সমাহিত করা হবে।

রানির সমাধির ওপর মার্বেলের ফলকে খোদাই করে লেখা থাকবে ‘দ্বিতীয় এলিজাবেথ ১৯২৬-২০২২’।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন