‘মোদি ট্রাম্পকে ফোন করেননি’, তাই কি ভেস্তে গেছে দুদেশের বাণিজ্য চুক্তি  

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকফাইল ছবি: রয়টার্স

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ার পেছনের কারণ জানিয়েছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক। তিনি বলেছেন, চুক্তির সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন না করায় চুক্তিটি ভেস্তে গেছে।

আজ শুক্রবার জনপ্রিয় মার্কিন পডকাস্ট ‘অল ইন’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান লুটনিক। এ সময় তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে ভারতের আলোচকেরা চুক্তি চূড়ান্ত করতে এসেছিলেন। কিন্তু তত দিনে ওয়াশিংটন এ–সংক্রান্ত শর্ত পরিবর্তন করে ফেলে।

লুটনিকের এই মন্তব্য থেকে পরিষ্কার হয় যে দুই দেশ একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে মার্কিন আলোচকেরা পিছিয়ে যান।

লুটনিক জানান, ভারতকে তিন সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি চুক্তির সবকিছু গুছিয়ে রেখেছিলাম এবং আলোচনার টেবিল প্রস্তুত করেছিলাম। কিন্তু এটা চুক্তিটি তাঁর (ট্রাম্প)। তিনিই এটি চূড়ান্ত করেন। তাই আমি বলেছিলাম, মোদিকে ফোন করতে হবে। সব প্রস্তুত। মোদি যেন প্রেসিডেন্টকে একটা ফোন করেন। কিন্তু তারা (ভারত) এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনি এবং মোদিও ফোন করেননি।’

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী এমন এক সময় এসব কথা বলেছেন, যার আগের দিনই রিপাবলিকান নেতা ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানান, ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিলে সায় দিয়েছেন। বিলটি পাস হলে রুশ জ্বালানি তেলের ক্রেতা দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারবেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুন

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু পণ্যে ভারত ৫০ শতাংশ শুল্ক দিচ্ছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ আগে থেকেই রাশিয়ার তেল কেনার কারণে আরোপিত। এসব শুল্ক ভারতের বিনিয়োগ ও রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

লুটনিকের মতে, ভারত সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তির ধরন হলো সিঁড়ির মতো। যে দেশ প্রথম ধাপে চুক্তি করবে, তারা সবচেয়ে ভালো সুবিধা পাবে। যুক্তরাজ্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে তারা সেরা চুক্তিটি পেয়েছে।’

আরও পড়ুন

লুটনিক আরও বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের পর ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন দ্রুত চুক্তি করে ফেলে। আমরা ভারতকে সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা চুক্তি করতে এসেছিল সময় শেষ হওয়ার পর। ভারত যখন সেই পুরোনো শর্তে চুক্তি করতে চাইল, আমি তাদের বললাম—সেই সময় এখন আর নেই। ট্রেন অনেক আগেই স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে।’

আরও পড়ুন