তৃণমূলের দলত্যাগী ২ সংসদ সদস্য ফিরতে পারেন মমতার পাশে
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর শোচনীয় ভাঙনের মুখে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। শুধু নবনির্বাচিত বিধায়কদের বেশির ভাগই নন, ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্যদের ২০ জন মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন, ভিড়েছেন বিজেপির শিবিরে। তাঁদের মধ্যে দুজন এখন আবার মমতার পাশে ফিরতে চাইছেন বলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন।
বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৭০ জনই মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন। তাঁরা বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী অংশে যোগ দিয়েছেন। এ বিদ্রোহের ছোঁয়া লাগে লোকসভাতেও। সেখানে তৃণমূলের সংসদ সদস্য ২৮ জন। মমতার দলেরই সংসদ সদস্য কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে অন্তত ২০ জন দলত্যাগ করেন।
দলত্যাগী সংসদ সদস্যরা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অনামী দল এনসিপিআইতে যোগ দিয়েছেন। তবে সেখানে বিজেপির প্রভাব স্পষ্ট। তৃণমূলের বাকি আটজন সংসদ সদস্য এখনো মমতার পাশে আছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ওই ২০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে অন্তত ২ জন মমতার তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন। এ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন। ওই দুজন সংসদ সদস্য হলেন মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান।
মমতার নেতৃত্বে থাকা তৃণমূলের অংশের সঙ্গে এই দুজন সংসদ সদস্য যোগাযোগ করছেন বলেও জানা গেছে। এমনকি গত মঙ্গলবার বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের বৈঠকেও তাঁরা উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে মমতার তৃণমূলের সঙ্গে ছেড়ে যাওয়া ২০ জন সংসদ সদস্য এনসিপিআইতে যোগ দেওয়ার পর ওই দলের নামে লোকসভায় বসার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু স্পিকার এখনো সেই আবেদনে সম্মতি দেননি। এটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশের অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তার আগে বিদ্রোহীদের দুজন আবার ঘরে ফিরে আসেন কি না, সেটার অপেক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি।