কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘অতিসক্রিয়তার’ অভিযোগ এনে নিন্দা প্রস্তাব আনছে তৃণমূল
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সংস্থার ‘অতিসক্রিয়তা’ এবং রাজ্য পর্যায়ের নেতাদের সিবিআই, ইডি ও আয়কর দপ্তরের হেনস্তার বিরুদ্ধে এবার বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব আনতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। সোমবার একথা জানিয়েছেন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রাজ্য বিধানসভায় এই নিন্দা প্রস্তাব আনা হবে।
এই বিষয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব আনা হবে। বিশেষ করে নিজেদের হাতে থাকা তদন্তকারী সংস্থাকে (সিবিআই, ইডি, আয়কর বিভাগ) রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপিবিরোধী সরকার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসবের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিধানসভায় নিন্দা প্রস্তাব আনতে চলেছে।’
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো বিভিন্ন অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূলের নেতা অনুব্রত মন্ডলসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব ঘটনায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়েছে। চাপে পড়েছে রাজ্যে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। দলটির দাবি, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এসব করছে। রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলতে চাইছে তৃণমূলক কংগ্রেসকে।
হাইকোর্টে মেনকার আবেদন
পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্যালিকা মেনকা গম্ভীর কলকাতা হাইকোর্টে ইডির বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তুলে আবেদন করেছেন। জানা গেছে, গত শনিবার রাতে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যাওয়ার পথে কলকাতা বিমানবন্দরে মেনকাকে আটকে দেয় ইডি। অভিবাসন দপ্তরের পক্ষ থেকে মেনকাকে জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মামলায় লুক আউট নোটিশ জারি রয়েছে। তাই তাঁকে দেশ ছাড়তে দেওয়া হবে না।
ওই রাতেই মেনকাকে একটি নোটিশ পাঠায় ইডি। তাতে বলা ছিল, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কলকাতার সল্টলেকে ইডির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে হবে মেনকাকে। তবে নোটিশে দুপুর সাড়ে ১২টার পরিবর্তে ভুলবশত রাত সাড়ে ১২টা লেখা হয়।
নোটিশ মেনে সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় সল্টলেকে ইডি কার্যালয়ে হাজির হন মেনকা। কিন্তু তাঁকে সেখানে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কার্যালয় বন্ধ ছিল। তবে চিঠি দেখানোর পর ইডির দপ্তরের প্রধান গেট খুলে দেওয়া হয়। পরে অফিসে ঢুকে কাউকে না পেয়ে মেনকা তাঁর আইনজীবীকে নিয়ে ফিরে আসেন।
এই হেনস্তার জন্য মেনকা সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। হাইকোর্ট সেই আবেদন গ্রহণ করে আগামী বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এদিকে ইডির পক্ষ থেকে মেনকাকে দেওয়া চিঠিতে সময় ভুল থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। ইডি জানিয়েছে, চিঠিতে সময়ের জায়গায় ‘পিএম’ লিখতে গিয়ে ভুলবশত ‘এএম’ লেখা হয়েছে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় মেনকা আবারও ইডির কার্যালয়ে যান। তাঁকে সংস্থাটির কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর কয়লা পাচার কাণ্ডে তৃণমূলের কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের মধ্যে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ও রয়েছেন। এর আগে সিবিআইয়ের কর্মকর্তারা এই বিষয়ে মেনকার দিদি ও অভিষেকের স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।