আবার উত্তপ্ত মণিপুর, বন্দুকযুদ্ধে ৯ জন নিহত
ভারতের মণিপুর রাজ্যের ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তবর্তী আগিজং গ্রামে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাত থেকে আজ বুধবার ভোরের মধ্যে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে।
দুদিন ধরে মণিপুরের বিভিন্ন সম্প্রদায় জানিয়ে আসছে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে তারা রাজি নয়। এ জন্য নানা কারণও দেখিয়েছে তারা। শান্তি আলোচনায় বসার বিষয়টিকে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায় খারিজ করে দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মণিপুরে বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটল।
সন্ত্রাসীদের মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনী ওই এলাকায় যাওয়ার পর বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয় বলে আজ বুধবার সকালে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে।
ইম্ফল পূর্ব জেলার পুলিশপ্রধান কে শিবকান্ত সিং বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১০টা-সাড়ে ১০টার দিকে আগিজং গ্রামে গুলি চালানো হয়। এতে ৯ জন নিহত হন। ১০ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশপ্রধান সিং বলেন, আসাম রাইফেলস ওই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল।
গত সোমবার মণিপুরে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। ওই দিন সহিংসতায় অন্তত একজন নিহত হন।
ওই ঘটনার পরেই গত সোমবার সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই ও সংখ্যালঘু কুকি-যোমি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা ঘোষণা দেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত শান্তি কমিটির কোনো শান্তি আলোচনায় তারা আর অংশ নেবে না।
এরপর গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে আবার সহিংসতা শুরু হয়। কীভাবে সহিংসতা থামানো যাবে, তা নিয়ে ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দিশাহীন অবস্থায় পড়েছে। বিপুলসংখ্যক আধা সামরিক ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করেও রাজ্যের সহিংসতা থামানো যাচ্ছে না।
মণিপুরে গত ৩ মে কুকি উপজাতি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ও প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত মেইতেইদের মধ্যে সহিংসতা শুরু হয়। তখন থেকে এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি। প্রতিদিনই সেখান থেকে হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ৫০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সহিংসতা শুরুর প্রায় দেড় মাস পার হয়ে গেছে। কীভাবে তা থামানো যাবে, তা নিয়ে বিজেপিশাসিত মণিপুর রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কাছে কোনো উত্তর নেই।
উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশ্লেষকদের মতে, মণিপুরের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারে যে গৃহযুদ্ধ চলছে, কার্যত সেটাই যেন ছোট আকারে দেখা যাচ্ছে মণিপুরে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট রাজ্য হওয়ায় হয়তো ভারতের সাধারণ মানুষ বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি জানে না। মণিপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর এখনো বিরোধী দলগুলো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি।