ইরান যুদ্ধের জেরে বিদেশি বিনিয়োগে কি দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে ইস্তাম্বুল
ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ সুযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ দেশে টানতে উদ্যোগ নিচ্ছে তুরস্ক।
সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর সূত্র অনুযায়ী, তুরস্কের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুল ফিন্যান্স সেন্টারের (আইএফসি) মতো অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানিকেও কর–সুবিধাসহ নানা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে আঙ্কারা।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান সম্ভবত আবুধাবি ও দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও আর্থিক কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করতে পারে। এমন আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম তুরস্কে সরিয়ে নিতে উৎসাহিত হতে পারে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোয় আন্তর্জাতিক ব্যাংক, আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি, ডেটা সেন্টার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে।
ইস্তাম্বুলের বাণিজ্যিক এলাকা আইএফসিতে ব্যাংক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ইতিমধ্যেই নানা কর–সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এখান থেকে বিদেশে পাঠানো (রপ্তানি করা) আর্থিক সেবার আয় পুরোপুরি করমুক্ত। এ ছাড়া এসব লেনদেনে কোনো বাড়তি ফি বা চার্জও দিতে হয় না।
২০০৯ সালের পর এরদোয়ান আর ডব্লিউইএফের দাভোস সম্মেলনে অংশ নেননি। সে সময় গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যার প্রতিবাদে ইসরায়েলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজের সঙ্গে প্রকাশ্য বিতণ্ডার জেরে তিনি সম্মেলন বর্জন করেছিলেন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্যও রয়েছে বড় কর–সুবিধা। প্রবাসে কাজের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের মাসিক বেতনের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য কর–সুবিধার আওতা আরও বৃদ্ধি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তুর্কি সরকার। নতুন নিয়মে বিদেশে উৎপাদিত পণ্য তুরস্কে না এনেই বাইরে কেনাবেচা বা মধ্যস্থতা করলে অর্জিত আয়ের ৫০ শতাংশ কর ছাড় দেওয়া হতে পারে।
এরদোয়ান ও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম
তুরস্কে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার কিছু প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইস্তাম্বুলে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) আয়োজনে ৪০ জন বিশ্বখ্যাত প্রধান নির্বাহীর (সিইও) সঙ্গে বৈঠক করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এসব কোম্পানির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ শতকোটি ডলার।
‘তুরস্কের আদালতের ওপর আসলে কারও কোনো আস্থা নেই।’একজন আন্তর্জাতিক ব্যাংকার
এই আয়োজনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০০৯ সালের পর এরদোয়ান আর ডব্লিউইএফের দাভোস সম্মেলনে অংশ নেননি। সে সময় গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যার প্রতিবাদে ইসরায়েলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজের সঙ্গে প্রকাশ্য বিতণ্ডার জেরে তিনি সম্মেলন বর্জন করেছিলেন।
ইস্তাম্বুলের এই বৈঠকের অন্যতম আয়োজক ছিলেন বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিঙ্ক। ডব্লিউইএফের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী অ্যালোইস জুইঙ্গি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতে তুরস্কের কৌশলগত ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে।
তুরস্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জেরেন কেনার মনে করেন, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে এরদোয়ানের সঙ্গে দাভোসের দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছে ডব্লিউইএফ।
জেরেন কেনার বলেন, ‘নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তুরস্কের অর্থনীতির ওপর আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বৈঠকটিকে দেখা যেতে পারে। এর বাইরে এরদোয়ানের নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে তুরস্ক যেমন যৌক্তিক ও কৌশলগত ভূমিকা পালন করছে, সেটিও বোঝা জরুরি।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুরস্কে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আঙ্কারা। তবে বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জনে তুরস্ককে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে।
কেনারের ভাষ্যমতে, ১৫ বছর ধরে সিরিয়া, ইউক্রেন, নাগোর্নো-কারাবাখ, ফিলিস্তিন, ইরানসহ একের পর এক যুদ্ধে তুরস্ক অনেকটা ‘ন্যায়সংগত মধ্যস্থতাকারীর’ ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছে। ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে তুরস্কের সম্পর্ক অনেক দিন আগের তুলনায় স্থিতিশীল। অন্যদিকে ট্রাম্পের শাসনামলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা তৈরি হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্ককে বাদ দিয়ে কোনো সমীকরণ তৈরি করা অসম্ভব।’
ইস্তাম্বুল ফিন্যান্স সেন্টারের (আইএফসি) প্রধান নির্বাহী আহমেদ ইহসান এরদেম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে পূর্ব এশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ৪০টি কোম্পানি তাদের কার্যক্রমের কিছু অংশ তুরস্কে সরিয়ে নিতে বা দেশটিতে ব্যবসা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
‘তুর্কি আদালতের ওপর কারও আস্থা নেই’
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তুরস্কে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে আঙ্কারা। তবে বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, এই লক্ষ্য অর্জনে তুরস্ককে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর কাছে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
প্রথমত, তুরস্কে মূল্যস্ফীতি এখন বেশ চড়া। চলতি বছর এই হার ২৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ছে বাণিজ্যঘাটতিও। তবে বিনিয়োগকারীদের বড় দুশ্চিন্তা অন্য জায়গায়। তাঁরা বলছেন, তুরস্ক সরকার বিদেশি বিনিয়োগ আছে, এমন ফিনটেক বা বড় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করে নিতে চায়। ১০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের প্রতিষ্ঠান ‘পাপারা’-এর ক্ষেত্রে সরকার এমনটিই করেছিল।
তবে মূল সমস্যাটি আরও গভীর। আর তা হলো, আইনের শাসনের অভাব। একজন আন্তর্জাতিক ব্যাংকার বলেন, ‘তুরস্কের আদালতের ওপর আসলে কারও কোনো আস্থা নেই।’
উদাহরণ হিসেবে ‘দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স সেন্টার’ (ডিআইএফসি)-এর কথা বলা যাক। সেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাধারণ আইনের বাইরে নিজস্ব দেওয়ানি ও বাণিজ্যিক আইন চলে। এটি ব্রিটিশ আইনের (ইংলিশ কমন ল) আদলে তৈরি এবং সেখানে ‘ডিআইএফসি কোর্ট’ নামে একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থা কাজ করে।
তুরস্কে এ ধরনের কোনো স্বতন্ত্র আইনি ব্যবস্থা চালু করা বেশ বিতর্কিত হতে পারে। কারণ, ওসমানীয় আমলে বিদেশিদের বিশেষ অর্থনৈতিক সুযোগ বা ‘ক্যাপিটুলেশন’দেওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশটির। ফলে দেশটিতে দ্বৈত আইনি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা কঠিন।
এ বিষয়ে তুরস্কের অর্থনীতিবিদ গুভেন সাক বলেন, ‘সরকারের জন্য এমন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা বেশ কঠিন হবে। তবে বর্তমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই আঙ্কারা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করতে পারে।’
তুরস্কের একজন জ্যেষ্ঠ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বাধীন আদালত গঠন না করেও আইনি পথে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও এআই কোম্পানিগুলোকে টানতে সরকার এ নিয়ে কাজ করছে।
অন্যদিকে গুভেন সাক মনে করেন, তুরস্কের চেয়ে উত্তর সাইপ্রাসে এ ধরনের বিশেষ জোন গঠন করা বেশি কার্যকর হতে পারে। কারণ, সেখানে আগে থেকেই ব্রিটিশ আইনের প্রভাব রয়েছে।
তুরস্ক বনাম দুবাই, কোথায় কেমন করব্যবস্থা
বৈশ্বিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আন্থোসিস গ্রুপের ভূরাজনীতি বিশেষজ্ঞ গুনেয় ইলদিজ বলেন, ইস্তাম্বুল ফিন্যান্স সেন্টারে (আইএফসি) ২০৩১ সাল পর্যন্ত ব্যাংকিং সেবায় কোনো কর দিতে হবে না। কাগজে-কলমে এটি দুবাইয়ের চেয়েও ভালো প্রস্তাব। কারণ, দুবাইয়ে ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানকে ৯ শতাংশ কর দিতে হয়।
তবে ইলদিজ মনে করেন, শুধু কর ছাড়ই যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগকারীরা তুর্কি লিরার দরপতন, মূল্যস্ফীতি ও নিম্ন ক্রেডিট রেটিং নিয়ে চিন্তিত। তুরস্কের সামষ্টিক অর্থনীতির উন্নতি হলেই কেবল বিনিয়োগকারীরা দুবাই ছেড়ে তুরস্কের দিকে ঝুঁকবেন।
তুর্কি অর্থমন্ত্রী মেহমেত সিমসেক ২০২৩ সাল থেকে সংস্কারমূলক নীতি গ্রহণ করলেও মূল্যস্ফীতি কমাতে পারেননি। এ নিয়ে তাঁর সমালোচনাও হচ্ছে।
অন্য আরেকজন বিশ্লেষক বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তি খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। তাদের জ্বালানি সরবরাহ ও অবকাঠামোগত সুবিধাও অনেক বেশি। তুরস্ক এই প্রতিযোগিতায় এখনো পিছিয়ে আছে।
ওই বিশ্লেষক আরও বলেন, বড় অনেক বহুজাতিক কোম্পানির তুরস্কে আগে থেকেই ব্যবসা রয়েছে। ফলে নতুন করে তাদের টানার সুযোগ সীমিত।
তুরস্কের উৎপাদন খাত
তুর্কি অর্থনীতিবিদ গুভেন সাক বলেন, আঙ্কারার সবচেয়ে বড় শক্তি এর উৎপাদন খাত। এ অঞ্চলে তুরস্ক এখন অন্যতম শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তিনি মনে করেন, গৃহযুদ্ধের কারণে বৈরুত যে সম্ভাবনা হারিয়েছিল, দুবাই মূলত সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে। এখন সঠিক সুযোগ-সুবিধা দিলে আরব আমিরাতের ‘জেবল আলী ফ্রি জোনে’ থাকা বড় চীনা বিনিয়োগকারীদের তুরস্ক টানতে পারবে। ইরান সীমান্তের ঠিক উল্টো পাশে হওয়ায় ওই ফ্রি জোনটি এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
ওই ফ্রি জোনে বর্তমানে ৫০৭টি চীনা কোম্পানি রয়েছে, যা ২০২১ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে অটোমোবাইল ও প্রযুক্তি খাতের ১১টি বিশ্বসেরা (ফরচুন ৫০০) প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে দেওয়া তুরস্কের কর–সুবিধা এসব প্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করতে পারে।
বিশেষজ্ঞ গুনেয় ইলদিজ অবশ্য সব শহরে ঢালাও সুবিধা দেওয়ার বিপক্ষে। তাঁর মতে, এতে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। তিনি ইস্তাম্বুল ফিন্যান্স সেন্টারকে (আইএফসি) মূল কেন্দ্র রেখে অন্যান্য ছোট শহরকে বিশেষায়িত ‘ফিনটেক হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
ইলদিজ মনে করেন, দুবাইয়ের যা নেই, তুরস্কের সেই বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার রয়েছে। তিনি বলেন, ৮ কোটি ৫০ লাখ মানুষের এই দেশে বিমা, পেনশন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাত এখনো সেভাবে বিকশিত হয়নি।
বিশেষজ্ঞ গুনেয় ইলদিজ বলেন, বিমা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও লিজিংয়ের মতো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাতগুলো তুরস্কের মোট সম্পদের মাত্র ১০ শতাংশ। অথচ উন্নত দেশগুলোয় এই হার চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। তাই করের হার নিয়ে দুবাইয়ের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় না নেমে এই বিশাল বাজারে প্রবেশের সুযোগকেই উপসাগরীয় দেশগুলোর সামনে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ইউরোপীয় আরেক বিনিয়োগ পরামর্শক বলেন, সঠিক কৌশল প্রণয়ন ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিনিয়োগকারীদের টানা সম্ভব। তবে এ জন্য তুরস্ককে আগে নিজের ‘ঘর সামলাতে’ হবে।
দেশজুড়ে বিরোধী মেয়রদের বরখাস্ত ও ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোলুকে গ্রেপ্তারের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে ওই পরামর্শক বলেন, যত দিন এরদোয়ানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লক্ষ্যই প্রাধান্য পাবে, তত দিন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ক্ষীণ।