ইরানে বিক্ষোভের পেছনে কারা আছে, কী বলছে তুরস্ক

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানফাইল ছবি: এএফপি
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে তুরস্ক। আঙ্কারার আশঙ্কা, এ বিক্ষোভ থেকে ওই অঞ্চলে অস্থিরতার সৃষ্টি হতে পারে।

বহু দশক ধরে আঙ্কারা ও তেহরান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী। বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক, লেবাননসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুদেশের স্বার্থ বারবার মুখোমুখি হয়েছে।

তবে নিজেদের ভেতর যত দ্বন্দ্বই থাকুক, তুরস্কের কাছে ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করেন মুস্তফা চানার।

ফিদান মনে করেন, ইরানকে গত ৩০ বছর ধরে নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নীতির মূল্য এখন চুকাতে হচ্ছে। এসব নীতির ফলে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এসইটিএর ইরান ও এই অঞ্চলবিষয়ক বিশ্লেষক মুস্তফা বলেন, ‘ইরান-তুরস্ক সম্পর্কে যতই গভীর উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক; ইরানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা তুরস্কের কাছে অগ্রাধিকার পাবে।’

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বক্তব্যেও দেশটির এই মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

গত শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে ফিদান বলেন, বিক্ষোভের জেরে ইরান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হবে, এমনটা তাঁদের মনে হয় না। তিনি ইরানে এবারের বিক্ষোভকে ২০২২ সালে কুর্দি তরুণী মাশা আমিনির মৃত্যু ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভের তুলনায় ছোট আকারের বলে বর্ণনা করেছেন।

আরও পড়ুন

যদিও বিশ্লেষকেরা ফিদানের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারেননি। তাঁদের মতে, ১৯৯৯ সালের পর ইরানে এত বড় আকারের বিক্ষোভ আর হয়নি।

ফিদান মনে করেন, ইরানকে গত ৩০ বছর ধরে নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নীতির মূল্য এখন চুকাতে হচ্ছে। এসব নীতির ফলে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ইরানের বর্তমান তরুণ প্রজন্ম প্রাণবন্ত ও সংবেদনশীল। তারা দৈনন্দিন জীবনে নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এবারের বিক্ষোভকারীদের বড় একটি অংশ বয়সে তরুণ। তারা সরকারকে কড়া বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করেন ফিদান।

ফিদান বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, সরকার তাদের বার্তা বুঝতে সক্ষম হবে।’

আরও পড়ুন

ইরানে বিক্ষোভের পেছনের কারণ নিয়েও কথা বলেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিক্ষোভের মাধ্যমে ইরান সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।

ফিদান বলেন, ‘একটি বাস্তবতা এটিও যে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বীরা বিদেশ থেকে এই বিক্ষোভকে প্রভাবিত করছে। হ্যাঁ, বাস্তবতা এটাই। মোসাদ বিষয়টি গোপনও করছে না; তারা নিজেদের ইন্টারনেট ও টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইরানি জনগণকে শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে আহ্বান জানাচ্ছে।’

আরও পড়ুন