সুয়েইদা থেকে বেদুইন যোদ্ধাদের সরিয়ে সংঘর্ষ বন্ধের ঘোষণা সিরীয় সরকারের

সুয়েইদা শহরে সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাফাইল ছবি: রয়টার্স

সিরিয়ার সরকার জানিয়েছে, তারা দ্রুজপ্রধান শহর সুয়েইদা থেকে বেদুইন যোদ্ধাদের সরিয়ে দিয়েছে। সেখানে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে সিরীয় সরকার দেশটির অশান্ত দক্ষিণাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করে।

গতকাল শনিবার এ ঘোষণা আসে সিরীয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নির্দেশের পর। তিনি দ্রুজ ও বেদুইন গোষ্ঠীর মধ্যে নতুন একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার নির্দেশ দেন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি আলাদা চুক্তি হয়। এ চুক্তির উদ্দেশ্য সংঘর্ষে ইসরায়েলের সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানো।

সরকারি ঘোষণার ঠিক আগে সুয়েইদা শহরে মেশিনগানের গুলির শব্দ ও আশপাশের গ্রামগুলোতে মর্টার শেল ছোড়ার খবর পাওয়া যায়। তবে এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুর আল-দিন বাবা এক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রচেষ্টা এবং সুয়েইদা প্রদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে সরকারি বাহিনী মোতায়েনের পর সংঘর্ষের অবসান ঘটেছে।

নুর আল-দিন আরও বলেন, সুয়েইদা শহর থেকে সব গোত্রীয় যোদ্ধাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের মহল্লাগুলোতে সংঘর্ষ বন্ধ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে একটি মহাসড়কে এক দ্রুজ ট্রাকচালককে অপহরণের ঘটনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এর জেরে পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গোত্রীয় যোদ্ধারা সুয়েইদায় এসে বেদুইন সম্প্রদায়ের পক্ষে যোগ দেয়। এ সংঘর্ষে সিরিয়ার সরকারি সেনাবাহিনীও জড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

গত বুধবার এ সংঘাতে ইসরায়েল হস্তক্ষেপ করে। তারা সুয়েইদা ও সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

ইসরায়েল দাবি করে, তারা দ্রুজ সম্প্রদায়কে রক্ষার জন্য এ পদক্ষেপ নিয়েছে। কারণ, সংখ্যালঘু এ গোষ্ঠীর নেতারা সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন।

আরও পড়ুন

সিরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সংঘর্ষে অন্তত ২৬০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৭০০ জন। তবে অন্যান্য সূত্র বলছে, হতাহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়ে গেছে।

সংঘাতের জেরে ৮৭ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন