হঠাৎ ইসরায়েল-জার্মানি নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি কী কারণে
জেরুজালেমে গতকাল রোববার একটি নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল ও জার্মানি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশেষ করে ‘ইরান ও তার মিত্রদের সৃষ্ট হুমকি’ মোকাবিলায় তারা জার্মানির সঙ্গে এ চুক্তি সই করেছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি এ নিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে দেওয়া বিবৃতির বরাত দিয়ে এএফপি বলেছে, ‘ইরান ও তাদের মিত্ররা শুধু ইসরায়েলের নয় বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেক্সান্ডার ডোবরিন্ট এই চুক্তি সই করেন।
গাজা যুদ্ধের জেরে গত বছর আগস্টে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি স্থগিত করেছিল জার্মানি। সে সময় জার্মানির যুক্তি ছিল, তাদের রপ্তানি করা অস্ত্র ইসরায়েল গাজা যুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পর ইসরায়েলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ জার্মানি।
এদিন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার জার্মান মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গিদেওন আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জার্মানি এ অবস্থান নিয়েছে, এবং আজ এই বিষয়টির গুরুত্ব সবার কাছে স্পষ্ট।’
ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের জেরে দেশটিতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন।
ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে বলেছে, ওয়াশিংটনের হামলার জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোয় পাল্টা হামলা চালানো হবে।
গত বছর ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।