ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চুক্তি মেনে নেওয়া ছাড়া নেতানিয়াহুর সামনে ‘কোনো বিকল্প নেই’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তিই করুক না কেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে তা মেনে নিতে হবে। কারণ, সব সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টই (ট্রাম্প) নেন।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে (এফটি) দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তাঁর (নেতানিয়াহু) সামনে অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমিই নিই। সব সিদ্ধান্ত আমি নিই। তিনি (নেতানিয়াহু) সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ নন।’
গত এপ্রিলের শুরুর দিকে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেই রোববার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এর পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফক্স নিউজকে আলাদাভাবে জানিয়েছেন, তিনি নেতানিয়াহুকে ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেবেন। ট্রাম্পের এই অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সঙ্গে চলমান আলোচনা সম্পন্ন করার বিষয়ে তাঁর ইচ্ছায় কোনো পরিবর্তন আনেনি। তিনি বলেন, ‘চুক্তির ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না।’
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। তবে এটি (ইসরায়েলে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা) এমন আক্রমণ ছিল না যা খুব বড় কোনো ধাক্কা দিয়েছে। আপনি কীভাবে দেখছেন তার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, এটি এমন একটি বিষয় যা ৩ হাজার বছর বা ৪৭ বছর ধরে চলে আসছে।’
তবে গত এপ্রিলের শুরুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে ইরানের সঙ্গে প্রথম দফা আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প যে অবস্থানে ছিলেন, তার তুলনায় এবার তাঁকে ইরানের সঙ্গে চুক্তি খুব দ্রুতই সম্পন্ন হচ্ছে—এমন কোনো দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করতে দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার মনে হয় চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। দেখা যাক কী হয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোববারের ইরানি হামলা তাঁর চিন্তা–ভাবনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তিটি তার নিজস্ব গুণাগুণের ভিত্তিতে হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে; তবে এই ঘটনার কোনো প্রভাব এর ওপর পড়বে না।’
যদি এ ধরনের কোনো চুক্তি ‘তার নিজস্ব গুণাগুণের কারণেই’ ব্যর্থ হয়, তাহলে কী হবে—এমনটা জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানে কমান্ডো অভিযানের কথা বিবেচনা করবেন।
এ ক্ষেত্রে দুটি পরিস্থিতি হতে পারে জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘প্রথমত, আমরা সম্ভবত সেখানে যাব এবং দেশটির বাকি অংশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব, যেসব অংশে আগে হামলা চালানো হয়নি। অথবা কেবল এটিই হতে পারে যে আমরা ইরানের ওপর অবরোধ বজায় রাখব। কারণ, এই (নৌ) অবরোধ সম্ভবত দেশটির ওপর এ পর্যন্ত চালানো যেকোনো হামলার চেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।’
নেতানিয়াহুকে নিয়ে এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে করলেন ট্রাম্প, যখন গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসে এই দুই নেতার মধ্যকার একটি উত্তপ্ত ফোনালাপের তথ্য ফাঁস হয়। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেছেন—‘তুমি পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছ। আমি না থাকলে তুমি এত দিনে কারাগারে থাকতে। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এই কারণে সবাই এখন ইসরায়েলকে ঘৃণা করে।’
ট্রাম্প ফোনালাপটি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং সেটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা নিয়ে কোনো দ্বিমত করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও—যার মধ্যে একটি গত সপ্তাহে কার্যকর হয়েছে—ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলের প্রায় প্রতিদিনের হামলা বন্ধ করতে পারেননি। এর মধ্যে রোববার সকালেও লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল।
মূলত বৈরুতের ওই হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই ইসরায়েলে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হলো ‘সব ফ্রন্টে’ স্থায়ী যুদ্ধবিরতি।