নোবেল পুরস্কারের পদক হাতবদল হলেও স্বীকৃতি থেকে যায় বিজয়ীরই: নোবেল কমিটি
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর কাছ থেকে কখনো এটির সম্মান ও স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া যায় না। তবে বিজয়ী চাইলে পদকটি অন্য কাউকে দিয়ে দিতে পারেন। গত বছরের শান্তিতে নোবেল বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো তাঁর পদকটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উপহার দেওয়ার এক দিন পর গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা দিয়েছে নোবেল কমিটি।
ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত বৃহস্পতিবার তাঁর নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন। এ জন্য ট্রাম্প তাঁকে ধন্যবাদ জানান। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, মাচাদো সোনার ফ্রেমে বাঁধানো পদকটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প পদকটি নিজের কাছে রেখে দিতে চান।
পদকের পাশাপাশি নোবেল শান্তি পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি সম্মাননাপত্র ও ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (১১ লাখ ৯০ হাজার ডলার) পেয়েছেন মাচাদো।
বিবৃতিতে নোবেল কমিটি বলেছে, পদক, সম্মাননাপত্র বা পুরস্কারের অর্থের ভাগ্যে যা-ই ঘটুক, পুরস্কারের প্রাপক হিসেবে প্রকৃত বিজয়ীর নামই আজীবন নথিভুক্ত থাকবে।
উপহার হিসেবে নোবেল পুরস্কারের পদক অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। সাহিত্যে নোবেলজয়ী ন্যুট হামসুন ১৯৪৩ সালে তাঁর পদক জার্মান স্বৈরশাসক হিটলারের প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসকে উপহার দিয়েছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিজয়ী ব্যক্তি পদক বা পুরস্কারের অর্থ দিয়ে কী করবেন, সে বিষয়ে নোবেল ফাউন্ডেশনের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ একজন বিজয়ী চাইলে এই স্মারকগুলো নিজের কাছে রাখতে পারেন, অথবা কাউকে দান করতে বা বিক্রি করে দিতে পারেন।
পাঁচ সদস্যের নোবেল কমিটি বলেছে, পদক ও সম্মাননাপত্র নোবেল পুরস্কারের বস্তুগত প্রতীকমাত্র। পুরস্কারের প্রকৃত মাহাত্ম্য হলো এর সম্মান ও স্বীকৃতি, যা বিজয়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে থাকে।
বিবৃতিতে ট্রাম্প বা মাচাদোর নাম সরাসরি উল্লেখ না করে নোবেল কমিটি বলেছে, পুরস্কার ঘোষণার পর কোনো বিজয়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা কাজ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করে না।
এর আগে গত সপ্তাহে মাচাদো বলেছিলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নেবেন। সে সময় নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হলে তা বাতিল, ভাগ বা অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী।’
উপহার হিসেবে নোবেল পুরস্কারের পদক অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। সাহিত্যে নোবেলজয়ী ন্যুট হামসুন ১৯৪৩ সালে তাঁর পদক জার্মান স্বৈরশাসক হিটলারের প্রচারমন্ত্রী জোসেফ গোয়েবলসকে উপহার দিয়েছিলেন।
শান্তিতে নোবেলজয়ী দিমিত্রি মুরাতভ ২০২২ সালে ইউক্রেনের শরণার্থী শিশুদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে নিজের নোবেল পদক ১০ কোটি ডলারে বিক্রি করেছিলেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ও সম্মাননাপত্র জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে দান করেন তাঁর স্ত্রী।