বিবৃতিতে সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা বলেছে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী শক্তিশালী ও অত্যন্ত কার্যকর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ব্যবস্থা মেনে চলা একটি অত্যন্ত পেশাদার ও সুশৃঙ্খল সংস্থা হিসেবে নিজেদের নিয়ে গর্ব করে। যদি ইউনিফর্ম পরিহিত কোনো কর্মী বেআইনি কাজে জড়ান, তার ওপর এই জবাবদিহি ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়ে থাকে।

এতে বলা হয়, ‘কিন্তু স্বার্থান্বেষীমহল যদি ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে বাহিনীর কোনো সাধারণ সদস্যেরও সম্মান, নিরাপত্তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে, তাহলে যেকোনো কিছুর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান তার কর্মকর্তা ও সেনাদের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।’

বিবৃতিতে বলা হয়, আজকে সামরিক বাহিনী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং খুবই নিন্দনীয়। সামরিক বাহিনী কিংবা কোনো সেনার মানহানি করে কাউকে পার পেয়ে যেতে দেওয়া হবে না।

এতে আরও বলা হয়, ‘বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে ঘটনাটি তদন্তের জন্য এবং কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বাহিনী ও এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানহানি ও মিথ্যা অভিযোগের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।’

এর আগে গতকাল শুক্রবার হাসপাতাল থেকে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইমরান খান দাবি করেন, তাঁকে হত্যা পরিকল্পনার বিষয়টি আগেই তিনি জানতে পেরেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার লংমার্চে জনসমাগম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকায় তিন ব্যক্তি আমাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। তাঁরা হলেন শাহবাজ শরিফ, রানা সানাউল্লাহ এবং সেনাবাহিনীর একজন মেজর।’

এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পিটিআই চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘নিজেদের পদ থেকে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে যান।’

আগাম নির্বাচনের দাবিতে লংমার্চ চলাকালে বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদে ইমরান খানের ওপর বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হন। আহত হন ইমরান খান ও পিটিআইয়ের কয়েক নেতাসহ ১৪ জন।

ইমরান খান তাঁর ওপর হামলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ে কর্মরত মেজর ফয়সাল নাসিরকে দায়ী করেন। ওই ঘটনায় হামলাকারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।