সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনের ৭ নম্বর ধারাসহ পাকিস্তান দণ্ডবিধির কয়েকটি ধারায় গতকাল সোমবার উপপরিদর্শক আমির শাহজাদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তিন দিন দেরির পর মামলাটি করা হলো।
পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান তাঁকে হত্যার কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ এবং জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসির জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন। তবে পুলিশের মামলায় তাঁদের কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

হামলার ঘটনায় পিটিআই নেতা জুবাইর খান নিয়াজির এক মামলার আবেদনে জ্যেষ্ঠ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের নাম ছিল। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে জটিলতার সৃষ্টি হয়।
এর আগে দিনের শুরুতে এই মামলা গ্রহণে দেরির বিষয়টি ব্যতিক্রম হিসেবে আমলে নেন সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফয়সাল শাহকার যদি স্বতঃপ্রণোদিত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া থেকে বাঁচতে চান, তাহলে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

গত ২৫ মে প্রথম দফা লংমার্চে সহিংসতা এবং পিটিআই কর্তৃক আদালতে দেওয়া অঙ্গীকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইমরান খানের বিরুদ্ধে অবমাননার মামলা চলাকালে সর্বোচ্চ আদালত এ মন্তব্য করেন। মামলা দায়েরের বিষয়টি ছাড়াও কয়েকটি বিষয়ে পর্যবেক্ষণ দেন সুপ্রিম কোর্ট।
পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়াল বলেন, ‘আপনারা কি দেখতে পাচ্ছেন না, এটা একজন জাতীয় নেতাকে হত্যার চেষ্টা?’ একই সঙ্গে মামলা দায়ের এবং তদন্ত–পরবর্তী সময়ে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আগাম নির্বাচনের দাবিতে দ্বিতীয় দফা লংমার্চ চলাকালে গত বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদে ইমরান খানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন ইমরান খান, পিটিআইয়ের কয়েকজন নেতাসহ ১৪ জন।

ইমরান খানের পায়ে গুলি লেগেছে। অস্ত্রোপচার শেষে রোববার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন ইমরান খান। মঙ্গলবার আবার লংমার্চ শুরুরও ঘোষণা দিয়েছিলেন পিটিআই চেয়ারম্যান। অবশ্য পরে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বৃহস্পতিবারই আবার তাদের এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।