পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফ (পিটিআই) তাদের অবস্থানে অনড়। ইমরান খান চাইছেন সরকার দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করুক। কিন্তু সরকার বলছে, তারা মেয়াদপূর্ণ করে যথাসময়ে নির্বাচন দেবে। এ পরিস্থিতিতে ইমরান খান লংমার্চ শুরু করেন। সেই লংমার্চে গতকাল বৃহস্পতিবার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ইমরান খান ও তাঁর দলের চার নেতা। পাঞ্জাবের ওয়াজিরাবাদে লংমার্চে ইমরান খানকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। এতে পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন লাহোরভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসাদ রামিন খান।
পাকিস্তানের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে ইমরান খানের। তবে কাউকেই দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া হবে না। এদিকে, ইসলামাবাদের কর্তৃপক্ষ সহিংসতা ঠেকাতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আসাদ রামিন খান বলেন, ‘বারবার যে প্রশ্নটি করা হচ্ছে, তা হলো আমরা সংসদীয় ব্যবস্থায় রয়েছি কি না? যদি এটি বেসামরিক সরকার হয়, তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলতে দিন। দেশে সাধারণ নির্বাচন দিন। আমরা জনগণের বিশ্বাস হারানোর পরিপ্রেক্ষিতে যা দেখছি, তাতে আমার আশঙ্কা, ইমরান খানকে এই হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তা আরও বেড়ে যাবে।’
লাহোরের ওই বিশ্লেষক আরও বলেন, গত কয়েক মাস ধরে আমরা যা দেখছি, তা নিয়ে একটা ভয় আছে। এই ভয় রাজনৈতিক অস্থিরতার। অনাস্থা ভোটের পরে ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকে এই ভয় আরও বেড়েছে। আগামী বছরের নির্বাচন ঘিরে আরও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে।’
পাকিস্তানের একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন, ইমরান খানকে গুলি করার ঘটনায় তাঁর সমর্থকেরা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। তবে পিটিআই নেতারা সম্ভবত ধাক্কা সামলে তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করবেন।
পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন–এর কলাম লেখক আরিফা নুর বলেন, ‘ইমরান খান তাঁর টুইটে আগেই বলেছেন এই লংমার্চ কেমন হবে সে সম্পর্কে। কিন্তু এত দিন পর্যন্ত লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার যা ঘটল, তা সম্পূর্ণ আলাদা। সাবেক একজন প্রধানমন্ত্রীর ওপর গুলি চালানোর মতো ঘটনা কেউই প্রত্যাশা করেন না। ২০০৭ সালের ঘটনা স্মরণ করলে বলতে পারি, ওই সময় জনপ্রিয় এক নেতাকে এ ধরনের সহিংসতায় হারিয়েছি আমরা। ২০০৭ সালে বেনজির ভুট্টো হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।’