এপস্টিনের আলোচিত খামার নিয়ে পুরোনো তদন্ত নতুন করে শুরু করেছে নিউ মেক্সিকো
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের একসময়ের মালিকানাধীন একটি খামারে অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ–সংক্রান্ত পুরোনো একটি তদন্ত নতুন করে শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজ এ ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টিন–সংক্রান্ত যে নথিগুলো প্রকাশ করেছে, তার সূত্র ধরেই এ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
গত ৩০ জানুয়ারি এপস্টিন–সংক্রান্ত সাড়ে ৩৫ লাখের বেশি সরকারি নথি অনলাইনে প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। একটি আইনের আওতায় নথিগুলো প্রকাশে বাধ্য হয়েছে তারা।
নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিগুলো দেখে মনে হচ্ছে আগে করা এ–সংক্রান্ত অন্য একটি তদন্ত আরও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই) পূর্ববর্তী ওই তদন্ত চালিয়েছিল। ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের ফেডারেল কৌঁসুলিদের অনুরোধে সে তদন্ত বন্ধ হয়ে যায়। একই বছর এপস্টিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনকর্মের উদ্দেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়।
কয়েক মাস পর ২০১৯ সালের আগস্টে ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল কারাগারের প্রকোষ্ঠে এপস্টিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য পরীক্ষকেরা এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বিশ্বের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে এপস্টিনের মিত্রতা এবং এর মধ্য দিয়ে সামাজিকভাবে তাঁর প্রভাব বলয় গড়ে তোলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। যেমন—সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর এক সময়ের বন্ধুত্ব, ইসরায়েলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। এ সম্পর্কসূত্রগুলো কীভাবে এপস্টিনকে জীবদ্দশায় রক্ষা করেছে, তা নিয়ে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলেছেন।
২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় এপস্টিন যৌনসেবা প্রস্তাব ও অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে যৌন উদ্দেশ্যে প্ররোচিত করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে তিনি আদালতের সঙ্গে একটি সমঝোতাভিত্তিক দোষ স্বীকার চুক্তিতে রাজি হন। আর এর ফলে শেষ পর্যন্ত ১৮ মাসের সাজা হলেও তিনি তার মধ্যে ১৩ মাস কারাভোগ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ বলেছে, এপস্টিন ও তাঁর সাবেক বান্ধবী গিলেন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগের বাইরে আর কোনো অপরাধের প্রমাণ তারা খুঁজে পাননি। ম্যাক্সওয়েল বর্তমানে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন।
তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বারবার অভিযোগ করেছেন যে বিচার বিভাগ পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়।
নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে এপস্টিনের সম্পর্ক নিয়েও স্থানীয়ভাবে তদন্তের চাপ বেড়েই চলেছে। অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের উদ্যোগে গঠন হওয়া একটি সত্য অনুসন্ধান কমিশন চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাদের প্রথম সভা করেছে।
২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কেন এপস্টিনকে নিউ মেক্সিকোতে যৌন নিপীড়ক হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়নি তা স্থানীয় আইনপ্রণেতারা জানতে চেয়েছেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজের দপ্তর বলেছে, তারা কমিশনের সঙ্গে কাজ করবে এবং এপস্টিন–সংক্রান্ত নথিগুলো পূর্ণাঙ্গ ও সম্পূর্ণ প্রকাশিত অবস্থায় দেখতে চাইবে।
এপস্টিন ১৯৯৩ সালে সাবেক ডেমোক্রেটিক গভর্নর ব্রুস কিং–এর কাছ থেকে ২ হাজার ৪৮০ বর্গমিটার (২৬,৬৯০ বর্গফুট) আয়তনের জোরো খামারটি কিনেছিলেন। এপস্টিনের মৃত্যুর পর তাঁর সম্পদ দেখভালকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে খামারটির মালিকানা বিক্রি করে দেওয়া হয়।