যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জন্য চুক্তিটি কী অর্থ বহন করে
অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে। চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে আগামী শুক্রবার। সই হতে যাওয়া চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জন্য কী অর্থ বহন করে, তা বিশ্লেষণ করেছেন বিবিসির মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরবিষয়ক সংবাদদাতা টম বেটম্যান।
টম বেটম্যানের মতে, এই চুক্তি হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েই ছিল।
জ্বালানি তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ ক্রমেই বেড়ে চলছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছিল।
অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি মারাত্মক চাপে। এর সঙ্গে দেশটির বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ জোরদার হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল।
ফলে এ পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষেরই কিছুটা স্বস্তি দরকার ছিল।
এ চুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলো, গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ-পরিসর বাড়ানো। এর আওতায় আরও ৬০ দিন কোনো ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর অঙ্গীকার এখানে আছে।
বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে। আর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র।
একই সঙ্গে দুই পক্ষ আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে।
চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন এ চুক্তির বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়েছিল।
এ তথ্যের আলোকে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প যে কারণগুলো দেখিয়ে প্রথমে ইরানে হামলা চালিয়েছিলেন কিংবা তেহরান যে কারণে কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, সেসব বিষয় এ চুক্তি চূড়ান্তভাবে সমাধান করছে না।
উভয় পক্ষ এ চুক্তিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরতে চাইবে।
সে জন্য ট্রাম্পের প্রয়োজন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে দীর্ঘমেয়াদি (অন্তত ২০ বছরের) ও যাচাইযোগ্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিষেধাজ্ঞা।
অন্যদিকে ইরানের প্রয়োজন ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, তেল বিক্রির আয়ের অবরুদ্ধ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিলে প্রবেশাধিকার।
এসব বিষয়সহ কোনটি আগে বাস্তবায়িত হবে, তা বরাবরই আলোচনার প্রধান অচলাবস্থার কারণ হয়ে এসেছে।
চুক্তিতে এসব বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার জন্য কিছু প্রতিশ্রুতি বা ‘সমঝোতা’ থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব বিষয়ে কোনো অর্থবহ সমঝোতা হয়েছে বলে মনে হয় না।
এর বাইরে ইসরায়েল ও ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থী রিপাবলিকানদেরও দাবি রয়েছে। তাদের মতে, চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে ইরানের প্রচলিত অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং অঞ্চলজুড়ে তেহরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দেওয়া অর্থায়ন সীমিত করার বিষয় থাকতে হবে।