এ বিষয়ে ডিস্যান্টিসকে সতর্ক করেছেন সাবেক রিপাবলিক প্রেসিডেন্ট। দীর্ঘ এক বিবৃতিতে ট্রাম্প ফ্লোরিডার গভর্নরের রাজনৈতিক প্রভাবকে নাকচ করে দেন। নিজের প্রথম মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় ২০১৭ সালে ট্রাম্পের কাছে ‘মরিয়া হয়ে’ ধরনা দিয়েছিলেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘রনের সমর্থন কম ছিল, জরিপেও খারাপ করছিল এবং অর্থও ছিল না। কিন্তু সে বলেছিল, আমি যদি তাকে সমর্থন দিই, সে জিততে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি তার (ডিস্যান্টিসের) নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবস্থাও করে দিই, যা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।’

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্টপ্রার্থী হওয়ার চেষ্টা থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ডিস্যান্টিস ‘গেম খেলছে’। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এটা করতে গেলে সে পরাজিত হবে।

প্রেসিডেন্ট পদে আরেক মেয়াদে লড়তে ট্রাম্প তাঁর নিজের পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার আশায় আছেন তিনি।

কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পেয়ে হতাশ রিপাবলিকান শিবির। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে তারা প্রত্যাশা অনুযায়ী বড় ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ব্যর্থ হয়েছে। উচ্চকক্ষ সিনেটে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এ জন্য দলের অনেকেই ট্রাম্পকে দায়ী করছেন।

মোটের ওপর ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে ট্রাম্পের অযৌক্তিক দাবিকে সমর্থনকারী প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেছেন ভোটাররা। তাঁর বাছাই করা অনেক প্রভাবশালী প্রার্থীকে জয় পেতে হিমশিম খেতে হয়েছে কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করেই হারতে হয়েছে।

এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও এখন সাবেক প্রেসিডেন্টকে ফের নির্বাচনে লড়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলছেন। ১৫ নভেম্বর এ নিয়ে বড় ঘোষণা (প্রার্থিতা ঘোষণা) দেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা ডেভিড উরবান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম দেখছেন। তাঁর সাবেক প্রেস সেক্রেটারি ফক্স নিউজকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি, প্রার্থিতা ঘোষণা থেকে তাঁর সরে আসা উচিত।’

অন্যদিকে ডেমোক্রেটিক প্রতিদ্বন্দ্বী চার্লি ক্রিস্টকে ২০ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়ে ডিস্যান্টিস উদীয়মান নেতা হিসেবে নিজের ভাবমূর্তিকে পোক্ত করেছেন। ট্রাম্পের বৃহস্পতিবারের বিদ্রূপের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি ফ্লোরিডার গভর্নর।

গত অক্টোবরে পরিচালিত ইসপোসের এক জরিপে দেখা গেছে, ভবিষ্যতে দলে ডিস্যান্টিসের ভালো প্রভাব থাকবে বলে মনে করেন নিবন্ধিত ৭২ শতাংশ রিপাবলিকান। বিপরীতে ৭৬ বছর বয়সী ট্রাম্পের ক্ষেত্রে একই মনোভাব পোষণ করেন ৬৪ শতাংশ রিপাবলিকান।