চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে অবসরে যাচ্ছেন ১৯ জন সচিব। কয়েকজন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই অবসরোত্তর ছুটিতে যাবেন। তবে এঁদের কেউ কেউ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে পারেন। ইতিমধ্যে তিন সচিবকে এক বছর করে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
সব সরকারের আমলেই এভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়ে জনপ্রশাসনের নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দেয়।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসনসচিব আবদুস সোবহান সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, প্রয়োজন বলেই কয়েকজনকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
জনপ্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, দুই বছর আগে সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার বয়স দুই বছর বৃদ্ধির ফলে অনেক কর্মকর্তার ওপরের পদে যাওয়ার পথ সংকুচিত হয়ে যায়। বর্তমানেও অনেক কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা পদোন্নতি পেয়েও পদের অভাবে আগের পদে কাজ করছেন। এখন নতুন করে চুক্তিতে নিয়োগের ফলে এ সমস্যা আরও বাড়বে।
এ ছাড়া চার সচিবসহ প্রায় ৪০০ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, সরকার হয়তো অতি আস্থাভাজন কিছু সচিবকে রাখতে চুক্তিতে নিয়োগ দিচ্ছে। কিন্তু এর ফলে প্রশাসনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, নানা সমস্যার কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার প্রশাসন ক্যাডারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ একেবারে কমিয়ে এনেছিল। এখন আবারও কয়েকজনকে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়ার কথা হচ্ছে।
জানতে চাইলে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, জনপ্রশাসনে ঢালাওভাবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক না। এর ফলে প্রশাসনে সমস্যা বাড়ে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. গোলাম হোসেন ৮ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা থাকলেও আগের দিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাঁকে একই পদে আরও এক বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে আরেক আদেশে গত ৩০ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়া কৃষিসচিব এস এম নাজমুল ইসলামকেও এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদ শেষ হওয়া সংসদ সচিবালয়ের সচিব আশরাফুল মকবুলকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া তিনজন ছাড়া যেসব সচিব আগামী এক বছরের মধ্যে অবসরে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদুজ্জামান ১২ ফেব্রুয়ারি, সচিব (লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের রেক্টর) এ জেড এম শফিকুল আলম ২৪ ফেব্রুয়ারি, ভূমিসচিব মুখলেছুর রহমান ৪ মার্চ, স্থানীয় সরকারসচিব আবু আলম মো. শহিদ খান ১৭ জানুয়ারি, অর্থসচিব ফজলে কবির ৩ জুলাই, স্বরাষ্ট্রসচিব সি কিউ কে মুশতাক আহমেদ ৮ জুলাই, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত ৯ আগস্ট, ওএসডি সচিব নুরুল হক ৮ মার্চ, বেসরকারীকরণ কমিশনের সদস্য রোকেয়া সুলতানা ২ জুলাই, পরিবেশ ও বনসচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী ৩১ আগস্ট, ইআরডি সচিব আবুল কালাম আজাদ ১২ সেপ্টেম্বর, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব মোহাম্মদ সাদিক ১৮ সেপ্টেম্বর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী ৩০ অক্টোবর, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ইকবাল মাহমুদ ২৯ নভেম্বর ও স্বাস্থ্যসচিব নিয়াজউদ্দিন মিয়া ৩০ ডিসেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে যাচ্ছেন। আর চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামানের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১১ জানুয়ারি।