
প্রথম থেকেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলে আসছেন, পরীক্ষা, পরীক্ষা, পরীক্ষা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমাদের যথেষ্ট পরীক্ষার কিট ছিল না। এখন শুনতে পাই, যথেষ্ট পরিমাণে কিট আছে, এখন বেশি করে পরীক্ষা করতে হবে। তাহলে জানা যাবে, কে করোনাভাইরাস বহন করছেন। তাঁকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে। আগে তো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলত না মাস্ক পরার কথা। এখন স্বীকার করছে এর প্রয়োজনীয়তা। অনেক দেশ এখন মাস্ক পরতে বলছে। আমাদের সৌভাগ্য যে আমাদের সরকার প্রথম থেকেই মাস্ক পরতে বলেছে নাগরিকদের সবাইকে। কারণ, হাঁচি–কাশিতে এ ভাইরাস অনেক দূর পর্যন্ত যায়। আগে বলা হতো তিন ফুট, এখন বলা হচ্ছে ছয় ফুট দূরে থাকতে। হাঁচির গতিবেগ ৫০ মিটার/সেকেন্ড। কাজেই আমাদের নাগরিকেরা যেন বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময় মাস্ক পরে নেন। কিন্তু অনেক শিক্ষিত মানুষও কথা শোনেন না। ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
আমার পরামর্শ হলো, বাড়ির বাইরে যাবেন না। খুব প্রয়োজনে যদি যেতেই হয়, মাস্ক পরুন। আর এটা আমরা সবাই জানি, বারবার হাত ধুতে হবে। আমি তো পাঁচবার নামাজের জন্য অজু করিই। সব মিলিয়ে আমার দিনে ১৫ বার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া হয়। কোথায় যেন শুনলাম, কম দামি সাবান, যেটাতে ফেনা হয়, সেটা বেশি কার্যকর। কাপড় কাচা সাবান দিয়ে হলেও হাত ধুতে হবে। আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করলাম ২০ জনের মতো। কেউ মোবাইল ফোনে, কেউ ল্যাপটপে, কেউ ডেস্কটপে অংশ নিল ভিডিও কনফারেন্সে। সবাই যাঁর যাঁর বাড়িতে ছিলেন। ওয়ার্ক ফ্রম হোম এখন বেশ কার্যকর। এভাবে ক্লাসও নেওয়া যায়। আমরা আইনের মাস্টার্স ক্লাস এভাবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের বিদেশি ছাত্রও আছে।
আমাদের দেশে কী হবে, বলা খুব মুশকিল। কারণ, আমেরিকা শুধু পৃথিবীর সবচেয় শক্তিশালী, উন্নত, ধনী দেশ নয়, তাদের চিকিৎসা পৃথিবীতে সবচেয়ে উন্নত বলে গণ্য। তারা পারছে না। প্রতিদিন মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।
আমরা বুয়েট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন থেকে ছোট উদ্যোগ নিয়েছি পিপিই সরবরাহ করার। অল্পসংখ্যক দেওয়া হয়েছে বেসরকারি হাসপাতালে। তা–ও তা করোনাভাইরাসের রোগীর কাছে পরে যাওয়ার জন্য নয়। তবে বুয়েট থেকে আরেকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, ভেন্টিলেটর তৈরির। একটি ভেন্টিলেটর থেকে দুজন রোগীকে একই সময়ে অক্সিজেন দেওয়া যাবে।
আমাদের বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ব্যবহার করতে পারতে হবে। কারণ, বেসরকারি হাসপাতালেই আছে দেশের মোট শয্যার দুই–তৃতীয়াংশ। এ জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা দরকার। যাতে সরকারি–বেসরকারি সব হাসপাতালের সবটুকু সুবিধা কাজে লাগানো যায়।
আরেকটি বিষয়। তাহলো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পাশে এসে দাঁড়ানো। এখানেও সমন্বয় নেই। অনেকেই খাবার কিনে দিচ্ছেন। তাতে কেউ বারবার পাবে, কেউ পাবেই না। বাজারে এখনো খাবার যথেষ্ট আছে। হাটবাজার খোলা আছে। কাজেই আমাদের অভাবী মানুষের তালিকা করে প্রত্যেকের মোবাইল ফোনে টাকা পাঠাতে হবে। এটারও একটা সমন্বয় দরকার।
জামিলুর রেজা চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক, উপাচার্য, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি