চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

আবাসন-সংকটে ভোগান্তি

আবাসন-সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী।
নগর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে নিজ খরচে থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলই শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু কয়েক বছর ধরে আবাসন-সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা।
২০০৩ সালে ‘বিআইটি চট্টগ্রাম’ থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার আগে ছাত্রীদের একটি হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে হল ছিল চারটি। ২০০৫ সালে উদ্বোধন করা হয় ৫৭২ আসনের বঙ্গবন্ধু হল। হলটি নির্মিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ে খোলা হয়েছে চারটি নতুন বিভাগ। অন্য বিভাগগুলোতেও বাড়ানো হয়েছে আসনসংখ্যা। কিন্তু নতুন কোনো আবাসিক হল নির্মাণ করা হয়নি। এই পাঁচটি হলে শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা দুই হাজারের কিছু বেশি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে পড়াশোনা করছেন প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষার্থী। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের নতুন আরও ৬৪০ জন শিক্ষার্থী।
এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের হলে আসন বরাদ্দ দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বঙ্গবন্ধু হলের দুটি ব্লকের কমনরুমকে ‘গণরুম’ (এক রুমে ৪০-৫০ জন) বানিয়ে দ্বিতীয় বর্ষের কিছু শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হলের বর্ধিত অংশের কক্ষগুলোতেও থাকছেন ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোহাম্মদ শাহ্ হল এবং শহীদ তারেক হুদা হলের দুটি কমনরুমকেও বানানো হয়েছে ‘গণরুম’। এসব গণরুমে নেই পড়ালেখার যথাযথ পরিবেশ।
বঙ্গবন্ধু হলের গণরুমের আবাসিক ছাত্র আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘গণরুমে একসঙ্গে অনেকে থাকায় আমরা পড়াশোনার যথাযথ পরিবেশ পাচ্ছি না। এ কারণে আমাদের পরীক্ষার ফল খারাপ হতে পারে।’
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম বর্ষের ক্লাস স্থগিত করা হয়। ক্লাস স্থগিতের কারণ সম্পর্কে উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সমস্যাকে দায়ী করেন।
কয়েকজন হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নতুন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ‘গণরুমে’ থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে সব হলে ২৫০ জনের বেশি নতুন শিক্ষার্থীকে আসন দেওয়া সম্ভব হবে না।
চট্টগ্রামের স্থানীয় শিক্ষার্থীদের হলে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে না। কারণ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মশিউল হক বলেন, ‘চট্টগ্রামের স্থানীয় অনেক শিক্ষার্থী হলে আসন নিয়ে রাখলেও তারা হলে না থেকে বাড়ি থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। এতে যাদের হলে আসন প্রয়োজন, তারা বঞ্চিত হচ্ছে।’
উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে সব নতুন শিক্ষার্থীকে হলে আসন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। দুটি নতুন হলের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু হবে। হলগুলো নির্মাণের পর আবাসন-সংকট থাকবে না।’