দিনাজপুরে কিশোরী ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন পুলিশ সদস্যের ফাঁসি হলেও সমাজে নারী নির্যাতন কমেনি; বরং বেড়েই চলেছে।
আজ রোববার দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যা ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন পালন করা হয়। সেখানে মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা কমিটির সভানেত্রী কানিজ রহমান এ কথা বলেন।
মানববন্ধনে ইয়াসমিন হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলনরত সাতজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তাসহ পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা আবার চালু করার দাবি জানানো হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে শহরের শেখ জাহাঙ্গীর কবরস্থানে নিহত ইয়াসমিনের কবরে এবং দিনাজপুর-রংপুর-ঠাকুরগাঁও মহাসড়কের দশমাইল মোড়ে ইয়াসমিনের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। সেখানে ফাতেহা পাঠ করা হয়।
সকালে নিহত ইয়াসমিনের মা শরীফা বেগম রামনগরে তাঁর বাসায় দিনব্যাপী কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। এ ছাড়া উদীচী, নাট্যসমিতি, নবরূপ, আমাদের থিয়েটার, গণশিল্পী সংস্থাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে মহিলা পরিষদ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মহিলা পরিষদের সহ-সভানেত্রী রাজিয়া সরকার, হোসনে আরা, সাধারণ সম্পাদক মারূফা বেগম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা সানু, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার, আদর্শ ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক রুবি আফরোজ বক্তব্য দেন।
১৯ বছর আগে ১৯৯৫ সালের এই দিনে কিশোরী ইয়াসমিন ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া নৈশকোচে দিনাজপুরের দশমাইল মোড় এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় কোতোয়ালি পুলিশের টহল দল তাকে বাড়ি (শহরের রামনগরে) পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে পিকআপ ভ্যানে তুলে নেয়। পথে পুলিশ সদস্যরা কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণ করেন। পরে নির্মমভাবে হত্যা করে তার লাশ দিনাজপুর দশমাইল মহাসড়কের পাশে ফেলে দেন। পরদিন বর্বরোচিত এ ঘটনার প্রতিবাদে দিনাজপুরের মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ সময় পুলিশের গুলিতে সাতজন প্রাণ হারান। আহত হন কমপক্ষে শতাধিক।
বিক্ষুব্ধ মানুষ দিনাজপুর শহরের থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে দেন। প্রশাসন অসহায় হয়ে পড়ে। শহরে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়। পরে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন পুলিশ সদস্যের ফাঁসি হয়। এ ঘটনায় আন্দোলনকারী দিনাজপুরবাসীর ওপরে গুলি চালানোর অপরাধে তত্কালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিত্সকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি মামলা বর্তমানে দিনাজপুর বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।