
২০১৮ সালের মধ্যেই রাজধানী ঢাকায় উড়াল সড়ক (এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে) দিয়ে গাড়ি চলবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আজ রোববার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে কাওলা এলাকায় ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। খবর বাসসের।
নগরবাসীর যানজটের ভোগান্তি লাঘবে সরকার ১২ হাজার ২ শ কোটি টাকা (সংশোধিত প্রকল্প ব্যয়) ব্যয়ে রাজধানীর সড়ক, বিশেষ করে রেল লাইনগুলোর ওপর দিয়ে এই উড়াল সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সেতু মন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে ঢাকাবাসী উড়াল সড়কটি ব্যবহার করতে পারবে। চারটি লেন অতিরিক্ত থাকবে। ফলে যানজটের কবল থেকে রেহাই পাবে জনগণ।
ওবায়দুল কাদের বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে দিয়ে যাতায়াতের সময় বিভিন্ন স্থানে যাত্রীরা উঠানামা করতে পারবেন এবং যানবাহনে উঠতে পারবেন। সড়কটি বেশির ভাগই হবে রেললাইনের ওপর দিয়ে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গ তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপের ক্ষতিগ্রস্তদের ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৩০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এ ছাড়া পুনর্বাসন পরিকল্পনার আওতায় প্রকল্পের ক্ষতিগ্রস্তদের বাজারমূল্য জমির ক্ষতিপূরণ, মালামাল, অপসারণ, ব্যবসায়িক ক্ষতি ইত্যাদি বাবদ ইতিমধ্যে ১১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণকাজ শেষের বছর ২০১৮ সালেই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৯ সালে অনুরূপ ভাবে মেট্রোরেলও চালু করা হবে। এ জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দ্রুতগতিতে এসব প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে।
প্রেস ব্রিফিং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির চেয়ারম্যান প্রেমচাই কর্ণসূধা, মিস্টার মুনচাই, থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত, প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলীসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ের রুট নির্ধারিত হয়েছে রাজধানীর বিমানবন্দর থেকে কুড়িল-বনানী-মহাখালী-তেজগাঁও-সাতরাস্তা-মগবাজার রেল করিডোর-খিলগাঁও-কমলাপুর-গোলাপবাগ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত।
দুটি লিংকসহ ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেস ওয়ের একটি লিংক থাকবে হোটেল সোনারগাঁওয়ের পেছনে। অপরটি থাকবে তেজগাঁও সাতরাস্তা হয়ে ফার্মগেট পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে এক্সপ্রেস ওয়ে সম্প্রসারিত করে উত্তর দিকে জয়দেবপুর চৌরাস্তা ও দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করবে, যা একদিকে কাঁচপুর সেতু এবং অন্য দিকে নির্মিতব্য পদ্মা সেতু, ঢাকার উত্তর-দক্ষিণ এবং মধ্যাংশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোকেও যুক্ত করবে।