উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে অবৈধ স্থাপনা

রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের খালি প্লটগুলো অবৈধ স্থাপনায় ভরে গেছে। এক হিসাবে দেখা গেছে, এই সেক্টরের সড়কগুলোতে ৮৫টি বস্তি, ১৫টি রিকশাগ্যারেজ, ৬টি টংদোকানসহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্লটগুলো অবৈধ দখল হয়ে যাচ্ছে। এভাবে অবৈধ স্থাপনার ফলে নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে ১৯টি সড়ক আছে। এর মধ্যে ৪ নম্বর সড়কে বস্তি আছে ১৫টি, ৩ নম্বর সড়কে ১৪টি, ৫ নম্বর সড়কে ৯টি, ৬/বি সড়কে ৮টি, ৬ ও ৬/এ সড়কে ৭টি এবং ১৭ ও ১৮ নম্বর সড়কে ৪টি করে বস্তি আছে। সেক্টরের ১, ২/এ, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৯ নম্বর সড়কে বস্তি আছে ২-৩টি করে। ৬/সি সড়কের সবগুলো প্লটে বস্তি এবং ৭ নম্বর সড়কের সবগুলো প্লটে টংদোকান বসিয়ে ব্যবসা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ দখলদারদের সঙ্গে এলাকায় অচেনা লোকেরা আনাগোনা করেন। তাঁরা নানা ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত। কেউ কেউ চুরি-ছিনতাইও করেন বলে অভিযোগ আছে।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ বস্তিবাসীর নেই কোনো স্থায়ী শৌচাগার। খোলা স্থানেই কিংবা সামান্য আড়াল করে তাঁরা উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করেন। আবার অনেকে খোলামেলা পরিবেশ নষ্ট করেন। কোনো কোনো বস্তির আকার প্লটের নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে রাস্তায় এসে পড়েছে। বস্তিবাসী দৈনন্দিন ব্যবহারের ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন যত্রতত্র। বেশ কিছু স্থানে জমে আছে ময়লার স্তূপ। খালি প্লটে পানিনিষ্কাশনের নালাগুলোও উন্মুক্ত। সেখানে প্রতিনিয়তই ময়লা ফেলছেন বস্তিবাসী। এতে করে বেশ কিছু নালা বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বস্তিগুলোতে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হয়। অনেক গভীর রাত পর্যন্ত স্থায়ী হয় সেসব। প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো চুরির ঘটনাও ঘটে। বস্তিগুলোতে মাদক ব্যবসা আর নানা অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে বলেও অভিযোগ করেন অনেকে।
সেক্টরের স্থায়ী বাসিন্দা মো. আবু নাসির আহমেদ বলেন, রাজউকের আবাসিক এলাকার এই নমুনা দেখলে মন খারাপ হয়ে যায়। যেখানে আবাসিক ভবন নির্মাণের কথা, সেখানে বস্তি আর গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে উত্তরা ১২ নম্বর কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম নাসিরুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘খালি প্লটে অবৈধ স্থাপনার কারণে সেক্টরের আবাসিক পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। আমরা একাধিকবার রাজউকের কাছে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদের আবেদন করেছি। কোনো ফল হয়নি। প্লটগুলো রাজউক থেকে সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা পরিদর্শনে আসেননি।’
রাজউক উত্তরা অঞ্চলের উপপরিচালক বাবুল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, প্লট বরাদ্দের চার বছরের মাথায় প্লটের মালিককে ওই স্থানে আবাসিক ভবন নির্মাণ করতে হবে। যদি না করেন, তাহলে প্লটের ক্রয়মূল্যের শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বার্ষিক জরিমানা আদায়ের বিধান রয়েছে। কিন্তু সেটা কার্যকর করা হয় না। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুব শিগগির বস্তিগুলো উচ্ছেদ করা হবে।