উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের সড়কগুলোর এ কী হাল!

উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের এক পাশ ভাঙা ২৭ নম্বর সড়ক ষ ছবি: প্রথম আলো
উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের এক পাশ ভাঙা ২৭ নম্বর সড়ক ষ ছবি: প্রথম আলো

‘একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে থাকে। কাদা হয়। প্রতিদিন সেই কাদা লেগে যায় স্কুলের পোশাকে। শিক্ষকদের কাছে লজ্জা পেতে হয়। এভাবেই যাতায়াত করি।’ উত্তরার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ৭ নম্বর সেক্টরের ২৭ নম্বর সড়কের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে এ কথা জানায় উত্তরা হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ। তার মতো অন্য শিক্ষার্থীদেরও অভিন্ন মত, এ রকম রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে না হলে খুব ভালো হতো।
অভিভাবক নাসিমা আক্তার তাঁর সন্তানকে নিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়ায় প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকতে হয় বলে জানান। তিনি বলেন, ভাঙা রাস্তায় রিকশায় বসে কোমর ব্যথা হয়ে যায়। কিন্তু তার পরও উপায় নেই।
সড়কটির ১৯ নম্বর বাড়ির এক বাসিন্দা জানান, বছর খানেক হলো এই সেক্টরের অনেকগুলো সড়কে বাতি জ্বলে না। সম্প্রতি রাতে তাঁর ব্যাগ আর মুঠোফোন ছিনতাই হয়। ১৮ নম্বর সড়কপথে যাওয়ার সময় তিনজন ছিনতাইকারী রিকশা আটকে এগুলো নিয়ে যায়।
উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, এই সেক্টরের অধীন অধিকাংশ সড়কের চিত্রই করুণ। সমস্যার কথা জানিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দফায় দফায় অভিযোগ করার পরও প্রতিকার মিলছে না। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকা হলেও অনেক বাড়িতেই চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। রাজউক এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
সরকারি কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালন না করায় তাঁদের কল্যাণ সমিতি থেকে ৫০ জন নিরাপত্তাকর্মী সার্বক্ষণিক কাজ করেন বলে জানান সভাপতি। মশা মারা ও নর্দমা পরিষ্কারের কাজটিও তাঁদেরই করতে হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কুদরতউল্লাহ জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কাজ করা হয় না, এটা ঠিক নয়। ২৮ নম্বরসহ কিছু রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু হচ্ছে। বাজেটস্বল্পতার কারণে উত্তরার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, রাজউক কোনো দায়িত্ব পালন করে না। উত্তরা আদর্শ শহরের প্রকল্পটি রাজউকের ছিল, সিটি করপোরেশনকে এলাকাটি হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু তাই বলে রাজউকের সার্বিক দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি।
রাজউক প্রধান প্রকৌশলী এমদাদুল ইসলাম বলেন, আবাসিক এলাকা উন্নয়ন করার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উন্নয়ন শেষ না হলে চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমাণ কর আদায় করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব, তাই নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ উন্নয়নের কাজ তাদেরই করতে হবে।