সাক্ষাৎকার

উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি সিমেন্টই বাজারে থাকবে

দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইনের অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। এই প্রকল্পের অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও সিমেন্টশিল্পের অবস্থা নিয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রিমিয়ার সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাসুদ মিলাদ

আমিরুল হক
ছবি : সংগৃহীত
প্রশ্ন

প্রথম আলো: দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইন চালু হলে এ অঞ্চলে কী পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন?

আমিরুল হক: কানেক্টিভিটি বা যোগাযোগব্যবস্থা হলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের হৃৎপিণ্ড। নতুন রেললাইন এই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বাড়াবে। পর্যটন অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করবে। পণ্য পরিবহনে সড়কপথের বিকল্প রুট তৈরি হবে। পণ্য পরিবহন ব্যয়সাশ্রয়ী হবে। এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাবে নতুন রেললাইন। তবে শুধু রেললাইন নয়, সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিলে বাণিজ্যের নতুন হাব হতে যাচ্ছে কক্সবাজার।

প্রশ্ন

শুধু রেললাইন চালু হলে এই সুফল মিলবে?

আমিরুল: শুধু রেললাইন বিবেচনায় নিলে হবে না। কক্সবাজারের দিকে তাকান। নতুন পর্যটন এলাকা, কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর সম্প্রসারণের মতো বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন কক্সবাজার ঘিরেই হচ্ছে। রেললাইন এই নতুন নতুন অবকাঠামোর একটিমাত্র। আবার কক্সবাজার থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকা ধরে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে। আমার তো মনে হয়, এসব অবকাঠামো উন্নয়নের সুফল মিলবে কক্সবাজার থেকে মিরসরাই বা নোয়াখালী পর্যন্ত এলাকায়। যেসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে, সেগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটির সম্পর্ক রয়েছে। এখন যদি রেললাইন মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে এর সুফল পাওয়া যাবে ব্যাপক।

প্রশ্ন

দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইন, কক্সবাজার বিমানবন্দরসহ দেশের বড় বড় প্রকল্পে সিমেন্ট সরবরাহ করছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট। প্রকল্পে সিমেন্ট সরবরাহে কেন প্রাধান্য দেন আপনারা?

আমিরুল: বাংলাদেশে যেসব বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলোয় প্রিমিয়ার সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু দোহাজারী–কক্সবাজারই নয়, বর্তমানে ৮০টির মতো প্রকল্পে আমরা সিমেন্ট সরবরাহ করছি। প্রকল্পে সিমেন্ট সরবরাহে আত্মতৃপ্তির বিষয় আছে। বাংলাদেশে যেসব বিশেষায়িত স্থাপনা সগৌরব মাথা তুলছে, তার সঙ্গে প্রিমিয়ার সিমেন্টের নামও থাকবে। প্রকল্পে সিমেন্ট সরবরাহের মাধ্যমে গুণগত মানের পরীক্ষা হয়ে যায়। কারণ, প্রকল্পে উপকরণ ব্যবহারে দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞরা পণ্যের মানে কোনো আপস করেন না।

প্রশ্ন

সিমেন্টের মতো নির্মাণ উপকরণের মূল্য সহনীয় রাখতে কী করা উচিত বলে মনে করেন?

আমিরুল: কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণেই শুধু খরচ বাড়ছে না। ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়ায় যুদ্ধের আগের চেয়ে এখন ডলারে দুই–তিন টাকা বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এটা কাঁচামালের দাম বাড়ার চাপের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ডলারের বিনিময় মূল্য যদি স্বাভাবিক রাখা না হয়, তাহলে সিমেন্ট নয়, নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়বে। বিশ্ববাজার স্থিতিশীল থাকলেও ডলারের বিনিময় মূল্য কেজিপ্রতি কয়েক টাকা খরচ বাড়িয়ে দেবে। এটা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর যদি বাড়াতে হয়, তাহলে ধীরে ধীরে সমন্বয় করা উচিত।

প্রশ্ন

প্রিমিয়ার সিমেন্টে নতুন প্রযুক্তিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে। নতুন প্রযুক্তিতে কী কী সুবিধা পাচ্ছেন?

আমিরুল: ঢাকা ও চট্টগ্রামের কারখানায় ভার্টিক্যাল রোলার মিল বা ভিআরএম প্রযুক্তিতে গত বছর থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ডেনমার্কের এফএল স্মিথের এই প্রযুক্তির সর্বাধুনিক সংস্করণ আমরা এনেছি। এই প্রযুক্তির সুবিধা হলো বিদ্যুৎ–সাশ্রয়ী, কম কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশবান্ধব। আর এই প্রযুক্তিতে সিমেন্টের কাঁচামালের সব উপকরণ মিহি দানায় পরিণত হয়।

সিমেন্টের সবচেয়ে বড় শত্রু অপ্রয়োজনীয় পদার্থ। এটি যত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে, ততই সিমেন্টের শক্তি বাড়বে।