অনুমোদিত ওজনের বাইরে অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী গাড়ি চলাচলের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটছে দুর্ঘটনা। অনুমোদিত ওজন অনুযায়ী পণ্য পরিবহনে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকেরা আন্তরিক নন। এই মহাসড়ক বাঁচাতে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের সদিচ্ছা বেশি জরুরি। এই বক্তব্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের।
অন্যদিকে পরিবহনমালিকদের বক্তব্য, অনুমোদিত ওজনের চেয়ে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের জন্য চালক-মালিকেরা দায়ী নন। বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাপে তাঁরা অতিরিক্ত পণ্য বহন করতে বাধ্য হন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের ওজন নিয়ন্ত্রণ শীর্ষক এক সভায় পাল্টাপাল্টি এসব মতামত উঠে আসে। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। সভায় পরিবহনমালিক, শ্রমিক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গত ২ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেন মহাসড়কের উদ্বোধন করা হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, অনুমোদিত ওজনের চেয়ে অতিরিক্ত ওজনবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বিভিন্ন স্থান দেবে যাচ্ছে। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সবার। অতিরিক্ত পণ্যবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে তিনি চিঠি পেয়েছেন বলেও জানান।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমরা সীতাকুণ্ড এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে গাড়ির চালকদের জরিমানা করেছিলাম। কিন্তু তারা (চালক ও শ্রমিকেরা) আগে থেকে অবহিত নয় বলে অভিযোগ করে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে। তবে এখন মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট চিঠি আসায় সবার সঙ্গে আলোচনা করে একটি করণীয় নির্ধারণ করতে হবে।’
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্যবাহী ১৮ চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭ টন, ১৪ চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে ২৫ টন এবং ৬ চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৫ টন ওজন বহনের অনুমোদন রয়েছে।
সভায় প্রাইম মুভার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, ‘ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য চালক-মালিকদের দায়ী করে লাভ নেই। কারণ, বন্দর যখন ৩০ টনের বেশি কনটেইনার আমদানি করে, তখন ওটা সিলগালা অবস্থায় আমাদের পরিবহন করতে হয়। এ ছাড়া বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অধিক ওজনের স্টিলের পাত পরিবহন করতে বাধ্য হই আমরা।’ তিনি বলেন, ওজন বেশি নিলে রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে, তা কেবল নয়; ক্ষতি গাড়িরও হচ্ছে।
আন্তজেলা মালামাল পরিবহন সমিতির নেতা মনির আহমদ বলেন, ‘আমরা অতিরিক্ত ওজন নিতে আগ্রহী নই, কিন্তু আমাদের বাধ্য করা হয়। অনেক সময় চালককে কয়েক হাজার টাকা বাড়িয়ে দিয়েও অতিরিক্ত পণ্য নিতে বাধ্য করা হয়।’
সভায় শ্রমিক এবং মালিকদের কেউ কেউ এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশনে (ওজন নিয়ন্ত্রক) ওজন নিয়ে যানবাহনের চালকদের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন। তাঁরা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ওজন কম থাকলেও গাড়ির ওজনসহ যোগ করে দেখানো হয়, ওজন বেশি।
সভায় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, মহাসড়কে অতিরিক্ত ওজনবাহী যত গাড়ি চলে, সে অনুযায়ী মামলা করা হয় না। এর কারণ সওজের জনবলসংকট। ওজন নিয়ন্ত্রক স্কেলের অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, স্কেলটি সওজের। এটি পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। এরপরও সওজের কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।