জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হারও বেড়েছে

গড় আয়ু ৭০ বছর ছাড়িয়েছে

.

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭০ বছর ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৯ সালে একজনের গড় আয়ু ছিল ৬৭ দশমিক ২ বছর। আর ২০১৩ সালে এসে তা বেড়ে হয়েছে ৭০ দশমিক ১ বছর।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মনিটরিং দ্য সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিসস্টিকস অব বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রাথমিক ফলাফলে এ চিত্র পাওয়া গেছে। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের মানুষের জন্ম, মৃত্যু, আয়ুষ্কাল, বিবাহের মতো জীবনের অত্যাবশ্যক সামাজিক সূচকের ওপর সমীক্ষা করা হয়। এতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের নারীরা পুরুষের তুলনায় গড়ে পৌনে তিন বছর বেশি বাঁচেন। নারীর গড় আয়ু ৭১ দশমিক ৪ বছর। আর পুরুষের ৬৮ দশমিক ৮ বছর। অবশ্য জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হারও বেড়েছে। ২০১২ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক হার ছিল ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০১৩ সালে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
জনসংখ্যাবিদ ও বিবিএস কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, বাল্যবিবাহপ্রবণতা কমে যাওয়া, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সামাজিক সূচকে উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেড়েছে।
এসব সূচকে অগ্রগতির ফলে প্রতিবছরই গড় আয়ু বেড়েছে। বিবিএস বলছে, একজন বাংলাদেশির গড় আয়ু ২০১০ সালে ৬৭ দশমিক ৭ বছর, ২০১১ সালে ৬৯ বছর ও ২০১২ সালে ৬৯ দশমিক ৪ বছর ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক এ কে এম নূর উন নবী প্রথম আলোকে বলেন, যে গতিতে গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে গড় আয়ু ৭০ বছর খুব খারাপ নয়। অনেক উন্নত দেশের মানুষের গড় আয়ুও এর কম। বাংলাদেশে এক মাসের কম বয়সী শিশুমৃত্যু হার আরও হ্রাস করা সম্ভব হলে গড় আয়ু আরেকটু বাড়ত।
এ ছাড়া শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধির মতো সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এটাও গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন এই জনসংখ্যাবিদ।
একই ধরনের অভিমত দিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও বিবিএস কর্মকর্তা আশরাফুল হক। তিনি আরও বলেন, মানুষ এখন প্রাণঘাতী রোগের দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। তাই এই প্রাণঘাতী রোগ মহামারি আকার ধারণ করতে পারছে না।