
চাঁদপুরে গতকাল শনিবার ‘ক্যাম্পস কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার’ নামে প্রথম ডায়ালাইসিস কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। চাঁদপুর শহরের মিশন রোডে কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস) দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের সেবা কার্যক্রম বিস্তৃত করতে নেওয়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুরে ডায়ালাইসিস কেন্দ্রটি চালু করল। এ উপলক্ষে সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দীপু মনি। আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার আমির জাফর, সিভিল সার্জন রথীন্দ্র নাথ মজুমদার, চাঁদপুর পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রদীপ কুমার দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন, চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর প্রমুখ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এম এ সামাদ। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ এখানে এ রোগের চিকিৎসা এতই ব্যয়বহুল যে শতকরা ১০ ভাগ মানুষেরও এ ব্যয় নির্বাহের সাধ্য নেই। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের কারণ হিসেবে তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, নেফ্রাইটিস, প্রস্রাবে বাধাজনিত রোগ, প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ গ্রহণ, স্থূলতা, ধূমপান ইত্যাদিকে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সচেতনতার অভাব, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের ধরন কিডনিসহ অনেক মারাত্মক রোগের কারণ। আকস্মিক কিডনি বিকল রোধে তিনি সাতটি বিষয়ের ওপর জোর দেন। এগুলো হলো ডায়রিয়া ও বমিজনিত পানিশূন্যতা রোধ, প্রসবকালীন ও দুর্ঘটনাজনিত রক্তক্ষরণ রোধ, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথা ও জীবাণুনাশক ওষুধ সেবন না করা, ভেজাল খাদ্য পরিহার, সাপ ও পোকার কামড়ে আধুনিক চিকিৎসা নেওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া ও বিশুদ্ধ পানি পান করা।