
যশোরের কেশবপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন। এখানকার বাসিন্দারা সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের সেবা পান না বললেই চলে। তবে গতকাল মঙ্গলবার ছিল তাঁদের জন্য বিশেষ একটি দিন। ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যালয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় ও ভূমি কার্যালয় ক্যাম্প করে স্থানীয় লোকদের সেবা দিয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার ২৭টি দপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন।
‘জনগণের দোরগোড়ায় সেবা’ স্লোগান নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। সেবা প্রদান ছাড়াও ইউপি কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হন সরকারি কর্মকর্তারা। এ সময় লোকজন সেবা সম্পর্কে জানতে চান। আবার কেউ কেউ সেবা নিতে গেলে কী ধরনের সমস্যায় পড়েন, তা তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এর সমাধানও দেন।
পরচক্রা গ্রামের রাশেদ আহম্মেদ তাঁর বাড়ির ভেড়ার স্বাস্থ্য সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ বিষয়ে সমাধান দেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসক জাফর আহম্মেদ। তিনি বলেন, ‘এখানে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি মানুষকে সেবা দেওয়ার তথ্য দিতে পারা যাচ্ছে, এটা বড় ব্যাপার।’ ওই গ্রামের বিলকিস নলকূপের পানি নিয়ে পরীক্ষা করতে এসেছিলেন। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি আর্সেনিক রয়েছে। তাঁকে ওই নলকূপের পানি না খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী খালিদ আহম্মেদ উসমানী বলেন, এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে, বিশেষ করে হিজলডাঙ্গা গ্রামে বেশি রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শেখ আবু শাহীন বলেন, ‘এর আগে বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্য ক্যাম্প করেছি। তবে সব বিভাগ মিলে সেবা দেওয়ার এই আয়োজন ব্যতিক্রম। এতে কর্মকর্তাদের জবাবদিহি বাড়বে।’
আয়োজক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ৩৬১ জনকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। ভূমি অফিস থেকে দুই শতাধিক লোককে দাখিলা প্রদান, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, নাম খারিজের খতিয়ান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ৬২টি গরু, ৫৬টি ছাগলকে সেবা এবং ৫০ জনকে সেবাবিষয়ক তথ্য দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় ১৭টি নলকূপের পানি পরীক্ষা করে।
বিদ্যানন্দকাটি ইউপির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সেবা পেয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ রায়হান কবির বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পিছিয়ে রয়েছে। তাই এখানে এমন আয়োজন করা হলো। পর্যায়ক্রমে সব ইউনিয়নে এ রকম আয়োজন করা হবে।