শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)। যশোর শহরের পুলেরহাট এলাকায়
শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)। যশোর শহরের পুলেরহাট এলাকায়

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র

জবাবদিহি ও মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি

শিশুদের ভালো রাখতে হলে আগে উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন দরকার। প্রথম কাজ হবে বিভিন্ন সময় করা তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন। একই সঙ্গে দরকার দায়িত্বরত ব্যক্তিদের মানসিক উন্নয়নের ব্যবস্থা করা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিনমজুর ফারুক মিয়া আর খুলনার ট্রাকচালক রোকা মিয়ার ভাগ্যটা একই রকম। দুজনের সন্তানই ছিল সরকারের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। নির্ধারিত সময়ের আগে ওরা ফিরেছে পরিবারের কাছে; তবে লাশ হয়ে।

ফারুক মিয়ার ছেলে সিহাব মিয়া গত ১০ জুলাই নিহত হয় টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। মুঠোফোন চুরির অভিযোগে আটক ছিল সিহাব। পরিবার তার জামিনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রোকা মিয়ার ছেলে রাব্বী নিহত হয় গত বছরের ১৩ আগস্ট যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে। কর্তৃপক্ষের লোকদের নির্মম পিটুনিতে তার সঙ্গে মারা যায় আরও দুই কিশোর।

গত এক বছরে দেশের দুটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রাণ হারিয়েছে পাঁচজন। আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ছয়জন। টঙ্গী ও যশোর উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে পালিয়েছে ১২ জন। এসব ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে তদন্ত কমিটির দেওয়া সুপারিশের অধিকাংশ বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে কেন্দ্রের পরিবেশের কোনো গুণগত উন্নয়ন হয়নি। কেন্দ্রের ভেতর অপরাধ হচ্ছে। অপরাধে জড়ানোর মামলা মাথায় নিয়ে নিবাসী শিশু-কিশোরেরা আবার একই কেন্দ্রে আটকে থাকছে।

ছোট-বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে মামলার আসামি হিসেবে কারাগারের বদলে শিশু-কিশোরদের উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখা হয়। উদ্দেশ্য, তাদের সমাজে পুনর্বাসনের জন্য গড়ে তোলা। যশোর ও গাজীপুরের টঙ্গীতে ছেলেদের জন্য দুটি এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে মেয়েদের জন্য একটি উন্নয়ন কেন্দ্র আছে। কিন্তু এসব কেন্দ্রের পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাক্রম, খাবার, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ইত্যাদি শিশুদের জন্য সহায়ক নয়। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, জবাবদিহি ও মানসিকতার পরিবর্তন না হলে উন্নয়ন কেন্দ্রের এসব গুরুতর সমস্যার সমাধান হবে না।

তবে এ বিষয়ে কথা তুললেই শুরুতে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলেন বরাদ্দ ঘাটতির কথা। নিয়োগের বিধিমালা, লোকবলসংকট—এসব তাঁদের স্থায়ী অনুযোগ। কিন্তু বছরের পর বছর এসব সমস্যার সমাধান কেন হচ্ছে না? জবাব, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উন্নয়ন কেন্দ্রে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, প্রাণহানি হলে তার দায়ও শুরুতে তাঁরা চাপিয়ে দেন কিশোরদের ওপর। এই প্রবণতার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে উন্নয়ন কেন্দ্র।

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে গত এক বছরে প্রাণহানি ও নানা সহিংসতার খবর বলছে, ভালো হতে গিয়ে কোনোভাবেই ভালো নেই শিশু-কিশোরেরা। তাদের ভালো রাখতে হলে দ্রুতই এই উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন দরকার। একই সঙ্গে দরকার এখানকার দায়িত্বরত ব্যক্তিদের মানসিক উন্নয়ন।

সাবেক নিবাসীর অভিজ্ঞতা

রাজধানীর একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে গাজীপুরের উন্নয়ন কেন্দ্রে কয়েক মাস ছিল এক কিশোর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই কিশোর প্রথম আলোকে জানিয়েছে, ‘কেন্দ্রের ভেতরে গ্যাং কালচারের মতো বিষয় আছে। উন্নয়ন কেন্দ্রে পৌঁছানোর পরপরই পুরোনো নিবাসীরা অনেক সময় নবাগতকে মারধর করে বরণ করে। আমি যাওয়ার পরপরই কয়েকজন আমাকে মারতে শুরু করেছিল। আত্মরক্ষার্থে আমিও পাল্টা হাত চালাই। কখনো কখনো বড় ভাই কালচার এত নির্মম হয়, যা বাইরে থেকে অন্য মানুষ ধারণাও করতে পারে না। কর্মকর্তারা এসব দেখেও না দেখার ভান করেন। তাই মারামারি সেখানে নিয়মিত ঘটনা।’

সাবেক এই নিবাসী জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিশুদের সঙ্গে ভালো আচরণ করলেও কর্মচারী বা সহযোগী পর্যায়ের ব্যক্তিরা নিবাসীদের নির্যাতন করে। গালাগাল ও মারধর হয় প্রায়ই। খাবারের বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘যেদিন সকালে নাশতায় শিঙাড়া দেওয়া হতো, ওটা আমরা সবচেয়ে ভালো নাশতা হিসেবে মনে করতাম। ভাত বা খিচুড়ির মান থাকে খুব খারাপ। দুপুরে ভাতের সঙ্গে মাছ অথবা মাংস, সঙ্গে সবজি থাকে। বিকেলে মুড়ি-চানাচুর দেওয়া হলেও চানাচুর তুলে নিয়ে জুনিয়রদের শুধু মুড়ি খেতে দেয় সিনিয়ররা। রাতের খাবার মূলত দুপুরে থেকে যাওয়া খাবারের উচ্ছিষ্ট অথবা একই রকমের খাবার। সব কক্ষেই গাদাগাদি করে থাকে নিবাসীরা।’ এই কিশোরের মতে, উন্নয়ন কেন্দ্রের ভেতরের যে পরিবেশ, তাতে সংশোধনের সুযোগ কম।

উন্নয়ন কেন্দ্রের কাজ কী

২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘন করা শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়া ও সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্য নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে দেশের তিনটি উন্নয়ন কেন্দ্র। শিশু আদালত থেকে পাঠানো শিশুকে গ্রহণের পর তার রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রদানের সব দায়িত্ব এই কেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপকদের। ভরণপোষণ, শিক্ষা, বৃত্তিমূলক ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মানসিকতার উন্নয়ন ঘটানোর কথা এখানে।

কেন্দ্রে কর্মমুখী ও ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও প্রচলিত শিক্ষার সঙ্গে তার সম্পর্ক কম। কর্মমুখী শিক্ষায় কাঠের কাজ, ওয়েল্ডিং বা বৈদ্যুতিক কাজের মতো ব্যবহারিক বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ আছে। কিন্তু নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক।

এতটুকু জায়গা, অনেকগুলো মুখ

তিন উন্নয়ন কেন্দ্রে ৬০০ আসনে এখন নিবাসী ১ হাজার ২২৭ জন। এর মধ্যে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩০০ আসনে ৭৬২, কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ১৫০ আসনের বিপরীতে ১০০ এবং যশোরের পুলেরহাটে অবস্থিত শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ১৫০ আসনের জায়গায় আছে ৩৬৫ জন। প্রথম আলোর ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, এ সংখ্যা এক বছর আগেও ছিল দেড় গুণের বেশি। নিবাসী শিশু-কিশোরদের বিরুদ্ধে হত্যা, সংঘর্ষ, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই বা মাদক গ্রহণ ও পাচারের মতো অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ধারণক্ষমতার বেশি নিবাসী থাকলে তাদের ব্যবস্থাপনায় বড় সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ, তাদের লোকবল, বরাদ্দ সে হারে বাড়ে না।

আবার আলোচনায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র

গাজীপুরের টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে সিহাবের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত অপর কিশোর এখন নতুন মামলার অভিযুক্ত হিসেবে এই কেন্দ্রে অবস্থান করছে। গাজীপুরের কেন্দ্রে যখন এই খুনের ঘটনা ঘটছে, তখন যশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের অবস্থাও ছিল উত্তপ্ত। মানসম্মত খাবার আর অন্যান্য দাবিতে নিবাসীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর করেছে কেন্দ্রে। জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের ওই ভাঙচুরের পর পালিয়েও যায় তিনজন। জুনের প্রথম সপ্তাহে একই কেন্দ্রে নিজেদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। একই রকম ঘটনা ঘটেছে গত বছরও।

২০১৪ সালে নিবাসীরা নিজেদের শরীর কাচ দিয়ে কেটে প্রতিবাদ করে। গত এপ্রিলের শেষে গাজীপুরের কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যাওয়া কুমিল্লার কিশোর এখনো নিখোঁজ। এ বছরের ২১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কেন্দ্রের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ভারতীয় কিশোর রিজুদ্দিন মোল্লার মরদেহ। এক বছর আগে যশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে প্রহার করা হয়েছিল ১৮ জন নিবাসীকে। ওই ঘটনায় মারা যায় ৩ জন। গুরুতর আহত হয় বাকিরা। ওই মামলায় অভিযুক্ত সাময়িক বরখাস্ত কেন্দ্রের চার কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই এখন জামিনে আছেন। এসব ঘটনায় উঠে এসেছে কেন্দ্রগুলোর অচল দশার খবর।

দুই কেন্দ্রে জুলাইয়ের দুটি বড় ঘটনার পর বদলি হয়েছেন যশোর উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. জাকির হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, একজন নিবাসীর খাবারের জন্য দিনপ্রতি মাথাপিছু বরাদ্দ ৮৩ টাকা। এর সবটাই তিন বেলায় খরচ হয়। এখানকার দুটি ভবনই সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে। সহজেই লাফিয়ে চলে যাওয়া যায় বাইরে। ওয়ার্ডের নিরাপত্তারক্ষীর ছয়টি পদের সব কটি শূন্য। কর্মমুখী শিক্ষার মধ্যে আছে শুধু ওয়েল্ডিং।

ওই উন্নয়নকেন্দ্রে মাদক বেচাকেনার অভিযোগ প্রসঙ্গে জাকির হোসেন বলেন, নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের (আনসার) মাধ্যমে এটা হচ্ছে। ওয়ার্ডে নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় সবকিছু দেখা সম্ভব হচ্ছে না।

তত্ত্বাবধায়ক এহিয়াতুজ্জামানের হয়ে গাজীপুর উন্নয়ন কেন্দ্রের ভেতরের নানা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিচ্ছে কিছু মানুষ। সেখানে কবে নিবাসীদের খাসির মাংস খাওয়ানো হয়েছে, সেই প্রচারণা চলছে। সিহাব হত্যাসহ এ বিষয়ে কথা বলতে ফোন করলে এহিয়াতুজ্জামান শুধু কেন্দ্রের আসন ও নিবাসী সংখ্যার তথ্য দিয়ে ফোন কেটে দেন।

সুপারিশ বাস্তবায়িত হয় না

টঙ্গী কেন্দ্রের নিবাসী সিহাবের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। যশোরে রাব্বীসহ তিনজন নিহত হওয়ার পর গঠিত কমিটি এক বছর আগে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। তারা কেন্দ্রের পরিস্থিতি উন্নয়নে যেসব সুপারিশ করেছে, এক বছরেও সেগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।

২০২০ সালের ১৩ আগস্ট যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে তিন শিশু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি ১০টি সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে একটি সুপারিশ ছিল কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা করা। একই সুপারিশ ছিল জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিরও। প্রতিবেদনে ছয়জন ওয়ার্ডার নিয়োগের সুপারিশ থাকলেও এক বছরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে কয়েকজন আনসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের দায়িত্ব সীমানাপ্রাচীর পাহারা দেওয়া। কমিটির সুপারিশগুলো ছিল: কেন্দ্রের ভেতরে শিশুদের নিবিড় তদারকির জন্য প্রশিক্ষিত নিজস্ব রক্ষী নিয়োগ, কেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্যও নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীর ব্যবস্থা করা, নিবাসীর বয়স ১৮ বছর পার হলে তাকে কেন্দ্রে না রাখা নিশ্চিত করা, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো, বয়স বিবেচনায় শিশুদের পৃথক কক্ষে রাখার ব্যবস্থা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার মান বাড়ানো, পূর্ণকালীন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ, বাংলাদেশের বিবেচনায় আইন প্রণয়নে গুরুত্ব দেওয়া, উন্নয়ন কেন্দ্রের অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সুপারিশের পর কেন্দ্রের নিরাপত্তায় কয়েকজন আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে ভেতরের নিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য এক বছরেও বাকি সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি। জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, সুপারিশে ওয়ার্ডারের কথা থাকলেও নিয়োগবিধিতে এ পদ নেই। পূর্ণকালীন চিকিৎসক প্রয়োজন হলেও নিয়োগের বিধান নেই। দুজনের স্থানে তিনজন করে বাবুর্চি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন বরাদ্দ বৃদ্ধি।

শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় কেন্দ্রের জনবল বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তাঁরা। খাবারের জন্য বরাদ্দ কম। নতুন কেন্দ্র তৈরির জন্য কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, জয়পুরহাট, খুলনা ও চট্টগ্রামে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে। অচিরেই সেখানে কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, একটি কথা মনে রাখতে হবে, উন্নয়ন কেন্দ্র হলেও আদতে এটি কারাগার।

সমাজসেবা অধিদপ্তর যখন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রকে কারাগার বলে জোর দেয় তখন চিন্তা হয় বৈকি! আবার তদন্ত কমিটি যখন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র বাড়ানোর সুপারিশ করে তখন তা সংশ্লিষ্টদের জগৎবিচ্ছিন্নতাকে প্রকাশ করে। দুনিয়াজুড়ে এ ধরনের উন্নয়ন কেন্দ্র কমানো হচ্ছে এবং এ ধরনের শিশুদের উন্নয়নে পরিবার ও সামাজিক সংগঠনকে যুক্ত করা হচ্ছে। ফলে বিদ্যমান শিশু কেন্দ্রগুলো পরিচালনার ঘাটতি না মিটিয়ে আরও চারটি উন্নয়ন কেন্দ্র নির্মাণের তথ্য আজকের দিনে উৎসাহের বদলে উদ্বেগ ছড়ায়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাবিনা শরমিন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র নিয়ে কাজ করছেন গবেষণার অংশ হিসেবে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, উন্নয়ন কেন্দ্রের যেকোনো ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিদের মধ্যে মনসামাজিক বিশেষজ্ঞ, সমাজকর্মী ও সমাজবিজ্ঞানী থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রের ভেতরে মূলধারার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষারও ব্যবস্থা করতে হবে। তাতে আস্তে আস্তে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে সবার আগে দরকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মানসিক উন্নয়ন এবং তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ।