
দেশের অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম তথা লাইকির মতো সব ধরনের অনলাইন গেম ও অ্যাপ বন্ধ করে অবিলম্বে অপসারণে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে রিট হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।
ওই সব গেম ও অ্যাপের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে, তা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানিয়ে সংগঠনটির পক্ষে ১৯ জুন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। এর জবাব না পেয়ে রিটটি করা হয় বলে জানান আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী সপ্তাহে রিটটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানান আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘রিটে পাবজি, ফ্রি ফায়ার, লাইকি, বিগো লাইভসহ ক্ষতিকারক সব গেম ও অ্যাপ অবিলম্বে বন্ধ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে তা অপসারণ করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এসব অ্যাপ ও গেমের আড়ালে শত শত কোটি টাকার অর্থ পাচার-লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। তরুণদের জন্য ক্ষতিকর গেমস ও অ্যাপস বন্ধে বিআরটিসিকে নিয়মিত সুপারিশ করতে প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষাবিদ ও আইনজীবীদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের আরজিও রয়েছে রিটে।’
রিটে বলা হয়, পাবজি ও ফ্রি ফায়ারের মতো গেমে দেশের যুবসমাজ ও শিশু-কিশোরেরা আসক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়ে পড়ছে মেধাহীন। অন্যদিকে টিকটক ও লাইকির মতো অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের শিশু-কিশোর এবং যুবসমাজ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। দেশে কিশোর গ্যাংয়ের সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি নারী পাচারের ঘটনা এবং দেশের বাইরে টিকটক, লাইকি ও বিগো লাইভের মাধ্যমে অর্থ পাচার হয়েছে, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, দেশের জনস্বার্থ শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের পরিপন্থী।
রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, শিক্ষাসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, স্বাস্থ্যসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, বিকাশ, নগদসহ ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে।