
সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক ড. শেখ গোলাম মাহবুব এই রায় দিয়েছেন।
সাজাপ্রাপ্ত ছয় ডাকাত হলেন ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার মো. শাহজাহান ব্যাপারীর ছেলে নুর আলম, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার ওসমান ব্যাপারীর ছেলে মো. নজরুল ইসলাম, একই এলাকার জবেদ আলীর ছেলে মো. মান্নান, ঢাকার ধামরাই থানার খোকন চন্দ্র বিশ্বাস, ভোলার দৌলত খাঁ থানার মো. কাশেম মুন্সীর ছেলে কামাল মুন্সী ও ঢাকার সাভার থানার নুর মোহাম্মদের ছেলে শফিকুল ইসলাম। রায়ে সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগে প্রত্যেক আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর আসামিদের বিরুদ্ধে সাজাপরোয়ানা জারি করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
রায়ে পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের সদস্য। প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। আসামিরা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন। ঢাকা, ঢাকার আশপাশেসহ বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের নাম পরিবর্তন করে, চোরাই গাড়ির নম্বর পাল্টে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ডাকাতি করতেন। রাষ্ট্রপক্ষ ১৫ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছে। আসামিদের স্বীকারোক্তি, জব্দ করা আলামত এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থায় রাষ্ট্রপক্ষ অস্ত্রসহ ডাকাতির অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। এ ধরনের আসামি সমাজের জন্য মঙ্গলজনক নয়। তাদের প্রতি অনুকম্পা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই প্রত্যেক আসামিকে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৪ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া সমিতির নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরছিলেন। ঘটনার দিন তেজগাঁও থানা এলাকায় আসামিরা তাঁর গাড়ি ব্যারিকেড দিয়ে গতিরোধ করেন। আসামিরা আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই গাড়িতে থাকা অন্য আইনজীবীদের নামিয়ে দেন। এ ঘটনায় আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় ছয় আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তাঁরা আদালতে জবানবন্দি দিয়ে ডাকাতির কথা স্বীকার করেন। তাঁদের কাছ থেকে গাড়ি ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ডিএমপির গাড়ি চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার দলের পরিদর্শক মাহবুব উর রশিদ তদন্ত শেষে ওই বছরের ৮ জুলাই অভিযোগপত্র দেন। ওই বছরের ৫ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মঞ্জুর মাওলা চৌধুরী। আর আসামিপক্ষে ছিলেন মো. মোশারফ হোসেন।