তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক প্রকাশ অনুষ্ঠানে অতিথিরা। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে
তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক প্রকাশ অনুষ্ঠানে অতিথিরা। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে

তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ

তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচকে বাংলাদেশের অবনতি ঘটেছে। ২০২১ সালের সূচক অনুযায়ী, দেশে নানা ক্ষেত্রে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ আগের চেয়ে বেড়েছে। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সূচক প্রকাশ করা হয়।

কোনো দেশের সরকার তামাক কোম্পানির নানা ধরনের হস্তক্ষেপ কীভাবে আমলে নেয় এবং তা মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেই বিষয়গুলো এই সূচকে এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ গাইডলাইনের আলোকে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সূচকে স্কোর যত বেশি, হস্তক্ষেপ তত বেশি। এফসিটিসি হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, তামাক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমে হুমকিতে পড়েছে এফসিটিসির কার্যকর বাস্তবায়ন এবং তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য।
তামাকবিরোধী সংগঠন প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। এতে ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক: এফসিটিসি আর্টিক্যাল ৫.৩ বাস্তবায়ন প্রতিবেদন, বাংলাদেশ ২০২১’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

এ বছর বিশ্বের ৮০টি দেশে তামাকশিল্পের হস্তক্ষেপ বিষয়ে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপের বৈশ্বিক সূচকে এবার বাংলাদেশের অবস্থান ৬২তম (স্কোর ৭২)। আগের বছর স্কোর ছিল ৬৮। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ এবারও সবচেয়ে বেশি। এবার ভারতের স্কোর ৫৭, পাকিস্তানের ৪৮, মালদ্বীপের ৪৮, শ্রীলঙ্কার ৪৫ ও নেপালের ৪৪।

এবারের সূচক অনুযায়ী, সবচেয়ে কম হস্তক্ষেপ হয়েছে ব্রুনেই, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও উগান্ডায়। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি হস্তক্ষেপ হয়েছে ডোমিনিক প্রজাতন্ত্র, সুইজারল্যান্ড, জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও জর্জিয়ায়।

তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করাসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে তা এফসিটিসির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে গবেষণায়। এ ছাড়া তামাক কোম্পানিকে পুরস্কার প্রদান বন্ধসহ সব সুবিধা প্রত্যাহার ও তামাক ব্যবসায় নতুন বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, করোনার চেয়ে তামাকের কারণে বাংলাদেশে অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সরকারি সংস্থাগুলো এফসিটিসি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ধারণ করছে কি না, সেটাই মৌলিক প্রশ্ন।

সভাপতির বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও জাতীয় তামাকবিরোধী মঞ্চের আহ্বায়ক কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, হস্তক্ষেপ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই নাজুক। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
তামাক কোম্পানির কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা গ্রহণ না করা বিষয়ে সরকারি সংস্থাগুলোকে সচেতন করার আহ্বান জানান টিভি টুডের এডিটর ইন চিফ মনজুরুল আহসান বুলবুল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গ্লোবাল সেন্টার ফর গুড গভরন্যান্স ইন টোব্যাকো কন্ট্রোলের (জিজিটিসি) হেড অব গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি মেরি আসুন্তা, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের বাংলাদেশের কান্ট্রি অ্যাডভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের (সিটিএফকে) লিড পলিসি অ্যাডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) বাংলাদেশের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যাশনাল প্রফেশনাল অফিসার সৈয়দ মাহফুজুল হক, দ্য ইউনিয়নের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ মাহবুবুল আলম, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের প্রমুখ।