
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া গ্রামে গতকাল শনিবার রোকেয়া আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত রোকেয়ার স্বামী মোহাম্মদ রুবেলকে (২৪) আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রমতে, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রুবেলের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায়। আর রোকেয়ার বাবার বাড়ি টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া গ্রামে। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ছেলে সিফাতের বয়স ২ বছর আর মেয়ের বয়স ১৪ দিন।
রোকেয়ার মা সুরুজ্জামান বলেন, মুঠোফোনে সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি রুবেল ও রোকেয়া বিয়ে করেন। এরপর তাঁদের সংসার ভালোই চলছিল। বড় সন্তান সিফাতের জন্মের পর রুবেল মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। বছর খানেক আগে রোকেয়া দিনাজপুরে শ্বশুর বাড়িতে যান। এর মধ্যে রোকেয়া অন্তঃসত্ত্বা হলে তিন মাস আগে তাঁকে টেকনাফ নিয়ে আসা হয়। ১৪ দিন আগে রোকেয়া একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। গত বুধবার দিনাজপুর থেকে টেকনাফ আসেন রুবেল। বৃহস্পতিবার সকালে রুবেল ও রোকেয়া ঘরে ছিল। আর বাড়ির অন্যরা খেতখামারের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরে তিনি রোকেয়ার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তিনি চিৎকার দিলে রুবেল দৌড়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাঞ্চন কান্তি দাশ রোকেয়ার লাশ উদ্ধার করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ রুবেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় টেকনাফ পৌরসভার শাপলা চত্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
এসআই কাঞ্চন কান্তি দাশ জানান, রোকেয়ার বাম হাতের কবজি কাটা ছিল। ঘাড়ের ওপর দায়ের আঘাতের চিহ্ন আছে। গ্রেপ্তার রুবেলের মাথায় ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে। তিনি বলেন, আটক রুবেল বলেছেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁদের দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় স্ত্রী তাঁকে দা দিয়ে আঘাত করলে তিনিও পাল্টা আঘাত করেন।
রোকেয়ার বড় ভাই নুরুল আজিজ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, মাদক সেবনের টাকার জন্য রোকেয়া ও রুবেলের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। এতে তাঁরা দুজনই আঘাতপ্রাপ্ত হন। তিনি বলেন, বোনকে হত্যার অভিযোগে তাঁরা রুবেলের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে জানান, আটক রুবেলকে পুলিশ পাহারায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।